ওয়াশিংটনে প্রযুক্তিশিল্পের নেতাদের সাথে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করার মতো অত্যন্ত কঠোর কিছু নিষেধাজ্ঞা তাদের হাতে রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ট্রাম্পের মতে, এই পরিস্থিতির পরিণাম দুই ধরনের হতে পারে—হয় তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে যাবে, নতুবা বর্তমান কঠোর ব্যবস্থাগুলোই অব্যাহত থাকবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না, কারণ তারা তা ব্যবহার করতে পারে।
হরমুজ প্রণালী ও বর্তমান পরিস্থিতি সংক্রান্ত মূল তথ্য
- মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ: হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ শতভাগ সফল হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
- ইরানের অবস্থান: তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ১৪-দফা সমঝোতা স্মারকের শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করবে না।
- সম্ভাব্য চুক্তি: হরমুজ সংক্রান্ত একটি চুক্তি খুব দ্রুত, সম্ভবত আজ বা আগামীকালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্র।
- সংঘাতের ভবিষ্যৎ: ইরান সংঘাত নিরসনে আগ্রহী এবং এই যুদ্ধের অবসান খুব দ্রুত হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
- ইরানের প্রতিক্রিয়া: ট্রাম্পের দাবির বিপরীতে ইরান তাদের অবস্থান শক্ত রেখেছে এবং পাল্টা জবাব দিয়েছে।
- তেলের বাজার: হরমুজ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেও তেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক আছে বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী বর্তমানে উন্মুক্ত রয়েছে এবং প্রচুর জাহাজ চলাচল করছে, যা অনেক ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমে উঠে আসছে না। তার ভাষ্যমতে, মার্কিন নৌ-অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর এবং এটি ১০০ শতাংশ সফল। তিনি জানান, তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩৫০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হলেও বর্তমানে তা ৮৪-৮৫ ডলারের আশেপাশে স্থিতিশীল রয়েছে। এছাড়া টেক্সাস, আলাস্কা ও লুইজিয়ানার মতো মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে তেল উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীলতা আগের চেয়ে কমেছে বলে তিনি মনে করেন।
এর আগে মার্কিন আলোচনার দলটিকে তেহরানের সাথে আলোচনা স্থগিত রাখতে বলা হয়েছিল, যতক্ষণ না তারা চুক্তির জন্য প্রস্তুত হয়। বর্তমানে ইরানের সাথে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা নির্ধারিত নেই। অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ না ১৪-দফা সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে—যার মধ্যে অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্তি এবং তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা অন্তর্ভুক্ত—ততক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে।
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। উভয় পক্ষই প্রণালীর বর্তমান অবস্থা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, পরিস্থিতি বর্তমানে ইতিবাচক এবং ভবিষ্যতে কোনো এক পর্যায়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। তবে পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে তিনি কোনো ছাড় দিতে রাজি নন। তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং তারা তা পারবেও না। সামগ্রিকভাবে, এই অঞ্চলটি এখন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই তাদের কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
সূত্র: গালফ নিউজ




























