ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইন্ডিকারের ‘ফ্রিডম ২৫০ গ্র্যান্ড প্রিক্স’ শুরুর আগেই এক বিশেষ উপহার পেতে যাচ্ছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। আগামী ২৩ আগস্ট এই রেস শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে ইন্ডিকারের ড্রাইভাররা হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে গিয়ে ফার্স্ট লেডিকে একটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা স্মারক হেলমেট উপহার দেবেন। মেলানিয়ার ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার’ উদ্যোগের অংশীদারিত্বের এক অনুষ্ঠানে এই হেলমেট হস্তান্তর করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ঘোষণা করবেন যে, ইন্ডিকার এবং ফক্স স্পোর্টস যৌথভাবে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি এবং পারডু ইউনিভার্সিটিতে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার’ উদ্যোগের অধীনে স্কলারশিপের স্পন্সর হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। এই উদ্যোগটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেকক্সাস ইউনিভার্সিটি, নর্থ ক্যারোলিনা ইউনিভার্সিটি, নিউ ইয়র্কের ডমিনিকান ইউনিভার্সিটি এবং পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির মতো দেশের ২৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু রয়েছে।
ড্রাইভারদের ডিজাইন করা এই বিশেষ হেলমেটটি মেলানিয়া ট্রাম্পের ‘বি বেস্ট’ (Be Best) উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে দেওয়া হচ্ছে। লাল, সাদা ও নীল রঙের থিমে তৈরি এই হেলমেটে লেখা রয়েছে “মেলানিয়া বি বেস্ট ফস্টারিং দ্য ফিউচার” (Melania Be Best Fostering the Future)।
এর আগে গত মে মাসে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার অ্যাক্ট’ (এইচ.আর. ৭৪৩২) নামের একটি দ্বিপক্ষীয় বিল পাস হয়। মেলানিয়া ট্রাম্পের ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার’ উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বিলটির লক্ষ্য হলো ফেডারেল ফস্টার কেয়ার কর্মসূচির আধুনিকায়ন করা, যাতে ফস্টার কেয়ার থেকে বের হওয়া তরুণদের শিক্ষা, আবাসন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ উন্নত করা যায়। বর্তমানে বিলটি সিনেটে পাস করানোর জন্য আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কাজ করছেন ফার্স্ট লেডি।
ফার্স্ট লেডির সিনিয়র উপদেষ্টা মার্ক বেকম্যান জানিয়েছেন, প্রতিনিধি পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস হওয়ার পর সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুনকে ডেকে ভোট আয়োজনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে চাপ দিচ্ছেন ফার্স্ট লেডি। তিনি পর্দার আড়ালে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তবে স্বামীর দ্বিতীয় মেয়াদে মেলানিয়া ট্রাম্পের জনসমক্ষে কম উপস্থিতি নিয়ে কিছু মহলে সমালোচনা চলছে। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্য এবং ওহাইওতে অনুষ্ঠিত কিশোরদের জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘প্যাট্রিয়ট গেমস’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে তাঁকে দেখা যায়নি। এমনকি জুলাই মাসে পুনঃনির্ধারিত হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজও এড়িয়ে গেছেন তিনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে মেলানিয়াকে মাত্র ৩৮ দিন জনসমক্ষে দেখা গেছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। সর্বশেষ গত ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল।
অবশ্য সমালোচকদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন বেকম্যান। তিনি বলেন, এই ফার্স্ট লেডি কাজের ফলাফলে বিশ্বাসী, লোকদেখানো প্রচারণায় নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২৫ সালের মে মাসে রোজ গার্ডেনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ‘টেক ইট ডাউন অ্যাক্ট’-এ সহ-স্বাক্ষর করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ডিপফেক এবং রিভেঞ্জ পর্নোগ্রাফির শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়া। এই দুটি আইনই মূলত তাঁর ‘বি বেস্ট’ উদ্যোগের অংশ, যা তিনি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই প্রচার করে আসছেন।
মেলানিয়ার লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার সমালোচনার জবাবে বেকম্যান তাঁর মানবিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ১৭ আগস্ট ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া কর্তৃক বিচ্ছিন্ন হওয়া ৩৪তম শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে মেলানিয়ার উদ্যোগ। এই মানবিক প্রচেষ্টার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৫ সালের আগস্টে, যখন মেলানিয়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একটি ব্যক্তিগত ‘শান্তি চিঠি’ লিখেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলাস্কার অ্যাঙ্করেজে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনের সময় পুতিনের কাছে সেই চিঠিটি নিজ হাতে পৌঁছে দিয়েছিলেন। বেকম্যান বলেন, ফার্স্ট লেডি তাঁর দল, কার্যালয় এবং বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কতটা সময় ধরে কাজ করছেন, তা প্রায়শই মানুষের নজর এড়িয়ে যায়। চলতি সপ্তাহটিই এর বড় উদাহরণ, যেখানে তিনি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও আমেরিকান শিশুদের কল্যাণে কাজ করছেন।





























