অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ‘মশরুম খুনের’ মামলার রায় বাতিলের চেষ্টা করছেন এরিন প্যাটারসন। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে নিজের বাড়িতে বিষাক্ত মশরুমযুক্ত খাবার খাইয়ে তিনজনকে হত্যা এবং একজনকে গুরুতর আহত করার দায়ে তিনি বর্তমানে কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তবে তার আইনজীবীরা দাবি করছেন, মামলার বিচার চলাকালীন জুরিদের আবাসন নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা বিচারের নিরপেক্ষতাকে মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
সেই সময় অস্ট্রেলিয়ার গিপসল্যান্ড অঞ্চলে জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। এই টুর্নামেন্টের কারণে স্থানীয় হোটেলগুলোতে তীব্র আবাসন সংকট দেখা দেয়। ফলস্বরূপ, বিচার চলাকালীন জুরিদের জন্য নির্ধারিত হোটেলে মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা, পুলিশের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী এবং প্রসিকিউশনের আইনজীবীরাও অবস্থান নেন। বিচারক ক্রিস্টোফার বিল জুরিদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে তাদের কঠোর নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন; এটি ছিল সেই উন্মাদনা থেকে জুরিদের ১২ সদস্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত। ০৮:২৮ মিনিটে ৭ জুলাই সোমবার, বিচারকের চেম্বার থেকে আইনজীবীদের ইনবক্সে একটি ইমেইল আসে। হোটেলের এই সীমাবদ্ধতা পুরো প্রক্রিয়াকে একটি জটিল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়।
এরিন প্যাটারসনের ব্যারিস্টার রিচার্ড এডনি ভিক্টোরিয়ার আপিল আদালতে দাবি করেছেন, এই ঘটনাটি একটি ‘বিপর্যয়কর’ ও অব্যক্ত প্রক্রিয়াগত ব্যর্থতা। তিনি বলেন, এর একমাত্র প্রতিকার হলো পুনঃবিচার। যদিও প্রসিকিউশন পক্ষ দাবি করেছে যে, জুরিদের সাথে অন্য কারো কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয়নি এবং জুরি কিপাররা বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। প্রসিকিউশনের মতে, পরিস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর তারা সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন এবং কোনো অনৈতিক যোগাযোগ ঘটেনি।
তবে এডনির যুক্তি, কেবল যোগাযোগ হওয়া নয়, বরং জুরিদের ওপর পরোক্ষ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও বিচারের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি উল্লেখ করেন, মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহে হোটেলটিতে কী ঘটেছিল সে বিষয়ে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ বা শপথনামা নেই। যদিও জুরিদের সাথে অন্য কারো যোগাযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও এই ঘটনাটি বিচারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহের অবকাশ তৈরি করেছে।
বর্তমানে তিন সদস্যের একটি বিচারক প্যানেল প্যাটারসনের আপিল এবং তার প্যারোলের মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে প্রসিকিউশনের আবেদনের ওপর শুনানি করছেন। মামলার রায় বা পুনঃবিচারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




























