বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্সে দুলীপ ট্রফির উদ্বোধনী দিনে বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তানুশ কোটিয়ান ও তুষার দেশপান্ডে। তাঁদের চমৎকার বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে নর্থ জোনকে ২৫১ রানে অলআউট করে দিয়েছে ওয়েস্ট জোন। অন্যদিকে, দিনের অন্য ম্যাচে সুদীপ কুমার ঘরামি ও শাহবাজ আহমেদের জোড়া সেঞ্চুরিতে নর্থ ইস্ট জোনের বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে ইস্ট জোন।
কলম্বোয় সারাংশ জৈনের টেস্ট ক্যাপ পাওয়ার দিনেই জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়তে থাকা আরেক অফস্পিনিং অলরাউন্ডার তানুশ কোটিয়ান দেখালেন তাঁর কার্যকারিতা। ২০২৬-২৭ ঘরোয়া মৌসুমের প্রথম দিনেই কোটিয়ান ৭২ রানে ৪ উইকেট নেন। তাঁর সঙ্গে দারুণ জুটি গড়ে ৫৭ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন পেসার তুষার দেশপান্ডে।
এর আগে বেঙ্গালুরুর শুষ্ক পিচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নর্থ জোন। মেঘলা আবহাওয়ায় শুরুতেই ধাক্কা খায় তারা। শার্দূল ঠাকুরের বলে দ্রুত বিদায় নেন যশ ধুল। কামরান ইকবাল তিনটি চার মেরে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিলেও দেশপান্ডের ফুল লেংথ বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। এরপর আয়ুশ দোসেজা ও আয়ুশ বাদোনির ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় নর্থ জোন। কয়েকটি ক্যাচ মিসের সুযোগ নিয়ে বাদোনি ফিফটি তুলে নেন। তবে দ্বিতীয় সেশনে দেশপান্ডের অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে ৫১ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
বাদোনির বিদায়ের পর কোটিয়ানের স্পিন জাদু শুরু হয়। প্রথমে দোসেজাকে সিলি পয়েন্টে চমৎকার ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এরপর নর্থ জোনের অধিনায়ক কানহাইয়া ওয়াধাওয়ানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন। আরশদীপ সিংয়ের আকাশে তোলা বল নিজের বোলিংয়ে নিজেই তালুবন্দী করেন কোটিয়ান। ২০৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে যখন নর্থ জোন ধুঁকছিল, তখন পালটা আক্রমণ চালান অংশুল কাম্বোজ। কোটিয়ানের ওভারে দুটিসহ মোট পাঁচটি ছক্কায় ৪৮ বলে ৬০ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কোটিয়ানের বলেই আউট হন কাম্বোজ। প্রথম দিন শেষ হওয়ার আগে ওয়েস্ট জোন তাদের ব্যাটিং ইনিংসে ৩১ রানে ২ উইকেট হারিয়েছে। বিদায় নিয়েছেন পৃথ্বী শ ও হারভিক দেশাই। আবিদ মুশতাক ৫ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন। ওয়েস্ট জোন এখনো ২২০ রানে পিছিয়ে আছে।
এদিকে অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইস্ট জোন ও নর্থ ইস্ট জোন। লাল বলের ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনটা ভালো হয়নি বৈভব সূর্যবংশীর; মাত্র ৬ বল টেকেন তিনি। তবে সুদীপ কুমার ঘরামি ও শাহবাজ আহমেদের সেঞ্চুরিতে প্রথম দিন শেষে ইস্ট জোনের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬ উইকেটে ৩৫৫ রান। টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া নর্থ ইস্ট জোন শুরুতেই সাফল্য পেয়েছিল। বিশভোর্জিত কোনথৌজাম ও ফেইরোইজাম জতিনের আঘাতে ২৫ রানে ২ উইকেট হারায় ইস্ট জোন। সাজঘরে ফেরেন সূর্যবংশী ও অভিমন্যু ঈশ্বরণ।
তৃতীয় উইকেটে কুমার কুশাগরাকে নিয়ে ৯২ রানের জুটি গড়েন ঘরামি। কুশাগরা ৫৫ রান করে আউট হওয়ার পর দ্রুত বিদায় নেন বিরাট সিং ও অধিনায়ক ইশান কিষাণ। ১৩৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া ইস্ট জোনকে টেনে তোলেন শাহবাজ ও ঘরামি। নর্থ ইস্ট জোনের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ঘরামি ২৫টি চারের সাহায্যে ১৪৬ রান করেন। জতিনের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে বড় সংগ্রহ এনে দেন তিনি। এরপর অনুকূল রায়ের সাথে ৬৭ রানের জুটি গড়ে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শাহবাজ। তিনি ১০০ রানে অপরাজিত আছেন। নর্থ ইস্ট জোনের পক্ষে জতিন ৫৩ রানে ৩ উইকেট নেন।





























