সংযুক্ত আরব আমিরাতে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দাম আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় স্থানীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দামে কিছুটা সমন্বয় বা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করা হবে।
আগস্ট মাসে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের গড় ক্লোজিং প্রাইস ছিল প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮৭.৭ ডলার, যা আগের মাসে ছিল ৮৩.৪৬ ডলার। হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার কারণে আগস্টের প্রথম তিন সপ্তাহে তেলের দাম ৮০ থেকে ৯০ ডলারের ঘরে অবস্থান করেছে।
গত জুলাই মাসে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় আগস্ট মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ০.২০ দিরহাম বাড়ানো হয়েছিল। সেই সময় সুপার ৯৮, স্পেশাল ৯৫ এবং ই-প্লাস পেট্রোলের দাম যথাক্রমে ৩.৬০, ৩.৪৯ এবং ৩.৪১ দিরহাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড এবং ডব্লিউটিআই (WTI) ব্যারেল প্রতি যথাক্রমে ৯১.১৮ ডলার এবং ৮৪.১৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চাহিদা কম হওয়ার চেয়ে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তাই বর্তমানে তেলের দামের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
জায়ে ক্যাপিটাল মার্কেটের চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার নাঈম আসলাম জানান, হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কার চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ইরানের রপ্তানি বা জাহাজ চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হলে তেলের দাম চড়া থাকবে। যদি কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের রপ্তানি কমে যায়, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯০ ডলারের উপরেই স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে কূটনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে এই বাড়তি দাম দ্রুত কমে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন এবং যারা তেহরানের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় প্রযুক্তি, স্বর্ণ, এভিয়েশন এবং শিপিং খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ইরানের তেল রপ্তানিকে আরও সংকুচিত করতে পারে।
সেঞ্চুরি ফিন্যান্সিয়ালের চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার বিজয় ভালেচা জানান, শুক্রবার রাতে প্রায় ৪০টি ট্যাঙ্কার ১৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, যা সাময়িকভাবে সরবরাহ সংকট কিছুটা কমিয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে ট্যাঙ্কার চলাচল এখনো খুবই সীমিত।
তিনি আরও যোগ করেন, হরমুজ প্রণালী ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে চীনসহ অন্যান্য তেল ক্রেতাদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়তে পারে, যা বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামকে আরও উসকে দিচ্ছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের খুচরা জ্বালানি বাজারে ছোটখাটো পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখন সোমবারের সরকারি ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।
সূত্র: খালিজ টাইমস































