ক্রিস্টোফার নোলানের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘ব্যাটম্যান বিগিন্স’-এ ‘ওয়েন ম্যানর’ হিসেবে ব্যবহৃত যুক্তরাজ্যের একটি ঐতিহাসিক প্রাসাদ এখন ধ্বংসের মুখে। ভবনটি সংস্কারের কাজ অবিলম্বে শুরু না করলে এটি এর মালিকদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কাউন্সিল। সংস্কার কাজের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সেখানে বাদুড় নিয়ে একটি পরিবেশগত সমীক্ষা (ব্যাট সার্ভে) চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের বাকিংহামশায়ারে ১৮৫২ থেকে ১৮৫৪ সালের মধ্যে নির্মিত এই রাজকীয় প্রাসাদটির নাম 'মেন্টমোর টাওয়ার্স'। ২০০৫ সালের ব্লকবাস্টার সুপারহিরো ছবি ‘ব্যাটম্যান বিগিন্স’-এ এটি ব্রুস ওয়েনের বাড়ি বা ওয়েন ম্যানর হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছিল, যেখানে অভিনয় করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ান বেল এবং কেটি হোমস। শুধু ব্যাটম্যানই নয়, ‘দ্য মামি রিটার্নস’ ও ‘জনি ইংলিশ’ চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ১৯৯৮ সালে স্পাইস গার্লসের ‘গুডবাই’ গানের মিউজিক ভিডিওর শুটিংও হয়েছিল এখানে। রূপালী পর্দায় আসার আগে এটি ছিল বিখ্যাত রথসচাইল্ড পরিবারের বাসস্থান।
তবে গৌরবময় অতীত থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রাসাদটি চরম অবহেলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বাকিংহামশায়ার কাউন্সিল গত ৪ আগস্ট এই প্রাসাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে একটি আনুষ্ঠানিক ‘লিস্টেড-বিল্ডিংস রিপেয়ার নোটিশ’ পাঠিয়েছে। কাউন্সিলের ডেপুটি লিডার পিটার স্ট্র্যাচান জানান, মালিকপক্ষকে এক মাসের মধ্যে একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত বাদুড় পরিবেশবিদ নিয়োগের প্রমাণ দিতে হবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে কাউন্সিল সরকারের অনুমতি নিয়ে প্রাসাদটি অধিগ্রহণ করতে পারে, যা পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
মেন্টমোর টাওয়ার্সকে যুক্তরাজ্যের ‘গ্রেড ১’ হেরিটেজ ভবন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাকিংহাম প্যালেস এবং টাওয়ার অব লন্ডনের মতো যুক্তরাজ্যের মাত্র ২.৫ শতাংশ ভবন এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণের জন্য নিয়োজিত সরকারি সংস্থা ‘হিস্টরিক ইংল্যান্ড’ জানিয়েছে, ভবনটির অবস্থা ‘খুবই খারাপ’ এবং এটি দ্রুত আরও ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি এটিকে তাদের ‘হেরিটেজ অ্যাট রিস্ক’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। স্বাধীন দাতব্য সংস্থা ‘সেভ ব্রিটেনস হেরিটেজ’ জানায়, ২০১৬ সালে এর ছাদ মেরামতের অনুমতি দেওয়া হলেও সেই কাজ শেষ করা হয়নি। বর্তমানে ভবনটির ছাদ, চিমনি, রুফলাইট এবং সিসার তৈরি কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১৯৯৯ সাল থেকে প্রাসাদটির মালিকানায় রয়েছে ‘মেন্টমোর টাওয়ার্স লিমিটেড’, যার মালিক সিরীয়-ব্রিটিশ আবাসন ব্যবসায়ী সাইমন হালাবি। ২০০৭ সালে দ্য টাইমসের তালিকায় হালাবি ব্রিটেনের ১৪তম ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তবে ২০১০ সালে একটি দেউলিয়া আইসল্যান্ডিক ব্যাংক থেকে নেওয়া ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হন।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের আগস্টের মধ্যে মালিকপক্ষকে তিনটি বাদুড় সমীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য অপরিহার্য ঐতিহাসিক লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। একই সাথে সমমানের ঐতিহাসিক ভবন মেরামতের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ঠিকাদার নিয়োগের প্রমাণ দিতে হবে। সংস্কার কাজ শুরু হলে বাকিংহামশায়ার কাউন্সিল এবং হিস্টরিক ইংল্যান্ডের কর্মকর্তারা প্রতি সপ্তাহে এটি পরিদর্শন করবেন।
এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ‘সেভ ব্রিটেনস হেরিটেজ’-এর পরিচালক হেনরিয়েটা বিলিংস বলেন, "বাকিংহামশায়ার কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই, যা বর্তমান মালিককে এই বিশাল প্রাসাদের জরুরি ও দীর্ঘকাল ধরে বকেয়া থাকা মেরামত কাজ শুরু করতে বাধ্য করবে। আমরা ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এর মালিকানায় থাকা ব্যক্তিদের অবিলম্বে সংস্কার কাজ শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছি। এই অসাধারণ ঐতিহাসিক নিদর্শনটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে।"




























