জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি তাদের ‘২০২৬ ডিফেন্স অব জাপান’ শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রচলিত সামরিক ব্যবস্থায় এআই-এর প্রয়োগের চেয়েও জাপানি সমাজের বিরুদ্ধে চীনের তথ্য কার্যক্রম এখন বড় ধরনের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি করছে। জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের ফলে চীন এখন জাপানের বিরুদ্ধে তথ্য যুদ্ধের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বাধাগুলো সহজেই অতিক্রম করতে পারছে।
২০২৫ সালের শেষের দিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে জাতীয় ডায়েটে তাইওয়ান পরিস্থিতির সাথে জাপানের নিরাপত্তার যোগসূত্র নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। এরপর থেকেই জাপানি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও অভ্যন্তরীণ ইস্যুগুলোকে লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর তথ্যের পরিমাণ ও জটিলতা ক্রমাগত বাড়ছে। সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন এবং ওপেনএআই-এর মতো সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, চীন-সংশ্লিষ্ট প্রভাব বিস্তারকারী গোষ্ঠীগুলো জাপানের অনলাইন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং তাদের কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়াতে এআই-এর সহায়তা নিচ্ছে।
অতীতে চীনের এই ধরনের তথ্য কার্যক্রমের প্রধান দুর্বলতা ছিল ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সীমাবদ্ধতা। তাদের তৈরি করা বিষয়বস্তুতে প্রায়ই ব্যাকরণগত ভুল, অসংলগ্ন অনুবাদ বা কৃত্রিম ভাষার প্রয়োগ দেখা যেত, যা সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। কিন্তু এখন এআই-এর কল্যাণে সেই দুর্বলতাগুলো অনেকটাই কমে এসেছে। এই সক্ষমতা যদি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে, রাজনীতিবিদদের অসম্মানিত করতে বা সামাজিক বিভাজন তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়, তবে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
চীন-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলো কেবল প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছে না, বরং তারা জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সামাজিক কল্যাণের বিষয়টিকে মিলিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা এমন প্রচারণা চালাচ্ছে যে, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের সামাজিক সুবিধা কমে যাচ্ছে। আগে এই ধরনের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ভাষাগত অসামঞ্জস্য বা এআই-জেনারেটেড ছবির ভুলগুলো সহজে ধরা পড়ত, কিন্তু এখন সেই দুর্বলতাগুলো ক্রমশ অদৃশ্য হয়ে আসছে।
সানকেই শিমবুন ‘পেপারওয়াল’ নামক একটি চীন-সংশ্লিষ্ট তথ্য নেটওয়ার্কের ওপর নজর রাখছে, যার মধ্যে ১৫টি ওয়েবসাইট রয়েছে যা জাপানি সংবাদমাধ্যমের ছদ্মবেশে পরিচালিত হয়। ওপেনএআই-এর ফেব্রুয়ারির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন-সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিকে লক্ষ্য করে চালানো অনলাইন প্রচারণায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছে। জেনারেটিভ এআই এখন ভাষাগত বাধা পেরিয়ে জাপানি ভাষায় ব্যাকরণ সংশোধন, সুর সমন্বয়, ছবি তৈরি এবং একই বিষয়বস্তুকে বিভিন্ন দর্শকদের জন্য দ্রুত তৈরি করতে সাহায্য করছে।
তাইওয়ান দীর্ঘদিন ধরে চীনের তথ্য অভিযানের মুখোমুখি হওয়ায় তারা এ ধরনের বিভ্রান্তি মোকাবিলায় সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। জাপানের ক্ষেত্রেও ভাষা ও সংস্কৃতির নিজস্ব প্রেক্ষাপট রয়েছে, যা চীনের জন্য পুরোপুরি আয়ত্ত করা কঠিন। তবুও জাপানকে কেবল রক্ষণাত্মক অবস্থানে না থেকে তথ্য কার্যক্রম শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। জাপান ও তাইওয়ানের মধ্যে তথ্য নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও প্রাতিষ্ঠানিক হওয়া প্রয়োজন। এতে সমন্বিত অ্যাকাউন্ট শনাক্তকরণ, ডিপফেক বিশ্লেষণ এবং বিদেশি প্রভাব নেটওয়ার্ক মনিটরিংয়ের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে।






























