নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমালয়ের পাদদেশে একটি পাহাড় ও হিমবাহ ধসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পাঁচ দিন পরও উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের সন্ধানে মরিয়া হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এই বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯০৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৪ হাজার ২০০ মানুষ নিখোঁজ থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহান্তে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধারের পর নিখোঁজদের ফিরে পাওয়ার ক্ষীণ আশা জেগেছে স্বজনদের মনে। তবে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভারী বর্ষণের ফলে পবিত্র ত্রিশূলী নদীতে নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
আটলান্টা থেকে সামর্থ শ্রীবাস্তব নামের এক ব্যক্তি সিবিএস নিউজকে জানান, বিপর্যয়ের সময় তার বাবা বিবেক নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ছিলেন। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে বাবার সাথে শেষ ফোন কলে বিবেক উপত্যকার খাড়া ঢাল নিয়ে রসিকতা করেছিলেন। এরপর থেকেই আর কোনো যোগাযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো দেখে সামর্থ ও তার পরিবার এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
বন্যা ও ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসলীলা নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ১৫০ মাইল দূরে ভারতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কাঠমান্ডুর প্রধান হাসপাতালে নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনরা ভিড় করছেন। হাসপাতালের দেয়ালগুলোতে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের ছবি টাঙানো হয়েছে, যাতে কেউ প্রিয়জনকে শনাক্ত করতে পারেন।
নিখোঁজদের স্বজনদের অভিযোগ, নেপাল বা মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। ভার্জিনিয়ার একটি পরিবার জানিয়েছে, বেঁচে থাকার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্যের কারণে তারা চরম মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। এদিকে, তিব্বতে আটকা পড়া বিদেশি পর্যটকদের বিষয়ে চীনা কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য জানায়নি।
































