দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট স্থায়ীভাবে মোকাবিলা করতে অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। এই সময়ের মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো এবং বিদ্যুত উৎপাদনে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সরকারের এই পরিকল্পনার মূল ভিত্তি—দেশীয় গ্যাস ও আমদানি করা এলএনজি—উভয়ই বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একদিকে পুরনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে চড়া দামেও প্রয়োজনীয় এলএনজি কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট, যার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৩৩-২৩৪ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার ৪৪ শতাংশ গ্যাসই সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক খাতে তীব্র সংকট তৈরি করেছে। অনেক এলাকায় আবাসিক গ্রাহকদের চুলা জ্বলছে না, আর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাসের অভাবে লোডশেডিং বাড়ছে।
গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল) জরুরি ভিত্তিতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সরবরাহের জন্য ডাকা দরপত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি। এছাড়া ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর ও ৫-৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য যে দর পাওয়া গেছে, তা আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় প্রতি ইউনিটে প্রায় আড়াই থেকে তিন ডলার বেশি। জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচক অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে এলএনজির দাম প্রতি ইউনিট ২২.৯৫ থেকে ২৩.৫০ ডলার হলেও সরবরাহকারীরা ২৫.৯২ ডলার দাবি করছে।
দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা দৈনিক ১১০ কোটি ঘনফুট হলেও এলএনজির অভাবে বর্তমানে ৭০-৭২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে মাত্র ৬৮টি কার্গো এসেছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৭১টি। জুলাই ও আগস্ট মাসে এই আমদানির হার আরও কমেছে। এর মধ্যে একটি টার্মিনাল অগ্নিকাণ্ডের কারণে ১৬ দিন বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছিল। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে অন্তত ২০টি কার্গো প্রয়োজন হলেও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও কার্গো নিশ্চিত করাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।






























