ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব অপরিসীম। মহানবী (সা.) সবসময় পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাকে পছন্দ করতেন এবং দুর্গন্ধের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতেন। মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য তিনি মিসওয়াক ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। রাতে ঘুমানোর আগে এবং ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর তিনি নিয়মিত মিসওয়াক করতেন, যাতে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং ঘুমের পর কর্মস্পৃহা ফিরে আসে।
হাদিস শরিফে মিসওয়াকের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখনই জিবরাইল (আ.) তাঁর কাছে আসতেন, তখনই তিনি মিসওয়াকের নির্দেশ দিতেন। এতে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, মিসওয়াক করতে গিয়ে তিনি হয়তো মুখের সম্মুখ দিক ক্ষয় করে ফেলবেন (মুসনাদ আহমদ: ২২২৬৯)। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (সা.) দিনে বা রাতে যখনই ঘুম থেকে উঠতেন, অজু করার আগেই মিসওয়াক করতেন (আবু দাউদ, মিশকাত: ৩৫২)। এমনকি নামাজের জন্য রাতে ওঠার সময়ও তিনি মিসওয়াক করতেন। মিসওয়াকের পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করা মিসওয়াক ছাড়া আদায়কৃত দুই রাকাত নামাজের তুলনায় সত্তর গুণ বেশি ফজিলতপূর্ণ বলে বর্ণিত হয়েছে (শুয়াবুল ইমান লিলবায়হাকি: ২৫২০)।
মিসওয়াক করার সঠিক ও সুন্নত পদ্ধতি হলো ডান হাতে মিসওয়াক ধরা এবং ডান দিক থেকে শুরু করা। দাঁতে প্রস্থে এবং জিহ্বায় লম্বালম্বিভাবে মিসওয়াক করা সুন্নত। আলেমদের মতে, মিসওয়াক হাতের আঙুলের মতো মোটা এবং এক বিঘত পরিমাণ লম্বা হওয়া মুস্তাহাব, তবে এটি জরুরি বা আবশ্যক নয়। মহানবী (সা.)-এর মিসওয়াক করার পদ্ধতি সম্পর্কে আহমদ ইবনে আবদাহ (রহ.) আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুল (সা.)-কে মিসওয়াক করতে দেখেছেন, যেখানে মিসওয়াকের এক পাশ তাঁর জিহ্বার ওপর ছিল এবং তিনি মিসওয়াক করার সময় ‘আ’ ‘আ’ শব্দ করছিলেন (নাসায়ি: ১/৩)।































