জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করার পাঁয়তারা চলছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে হল দখল ও আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ প্রতিনিধি ও ছাত্রশক্তির নেতৃত্বের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও তাদের সহযোগীরা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ সময় তিনি হবিগঞ্জে আলিফ নামের এক ব্যক্তির চোখ উপড়ে ফেলার মতো নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
মঙ্গলবার রাজধানীর আফতাবনগরের সিরাজ কনভেনশন সেন্টারে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতে জড়াবেন না। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ক্ষমতার দাপটে সবকিছু দখলের যে মানসিকতা তারা দেখাচ্ছে, তা শেখ হাসিনার পতনের কারণ ছিল। এই পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।
জুলাই অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই বিপ্লবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে। তিনি তাদের আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানের ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে অভিহিত করেন। ১৭ জুলাইয়ের দমন-পীড়নের পর যখন আন্দোলন স্থিমিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তখন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই হাল ধরেছিল। তাদের এই আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও ডকুমেন্টেশন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে দুঃখজনকভাবে বর্তমান সরকার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, দলের রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আলী আহসান জুনায়েদ এবং যুগ্ম সদস্যসচিব রাফে সালমান রিফাত। এছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: Dainik Amader Shomoy






























