পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে টেস্টের তৃতীয় দিনে স্পিন ঘূর্ণিতে ম্যাচে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এদিন মোট ১৪টি উইকেট পতন হয়েছে। পিচের সুবিধা কাজে লাগিয়ে জমেল ওয়ারিকান ছয় উইকেট শিকার করলে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৮৭ রানে গুটিয়ে যায়। তবে এই ইনিংসে আব্দুল্লাহ শফিক অপরাজিত ১৬০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন।
দিনটি পাকিস্তানের জন্য ছিল দুই ধরনের পতনের গল্প। দিনের শুরুতে বাবর আজম একটি রান নিতে গিয়ে সরাসরি থ্রোতে রান আউট হন। বাবর সেঞ্চুরি থেকে ১২ রান দূরে থাকতে আউট হওয়ার পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রেন্ডন কিংয়ের ইনজুরি দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। বল ধরার সময় অদ্ভুতভাবে পড়ে গিয়ে কিং পিঠের চোটে আক্রান্ত হন এবং পরবর্তীতে আর ফিল্ডিং কিংবা ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি। এরপর ওয়ারিকান আওয়াইস জাফরকে আউট করেন এবং শামার জোসেফের বলে সালমান আগা শূন্য রানে এলবিডব্লিউ হলে ৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান চাপে পড়ে। মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৮ রান করে ওয়ারিকানের আর্ম বলে বোল্ড হন।
তবে সাজিদ খান এবং আব্দুল্লাহ শফিক ৫৯ রানের জুটি গড়ে দলের হাল ধরেন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোরের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। দ্বিতীয় সেশনে শফিক কাভেম হজের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ১৫০ রান পূর্ণ করেন। ওয়ারিকানকে বিরতি দেওয়ার পর জেইডেন সিলস সাজিদের প্রতিরোধ ভাঙেন। এরপর ওয়ারিকান লেজেন্ডারদের দ্রুত সাজঘরে পাঠিয়ে নিজের ছয় উইকেট পূর্ণ করেন। চা বিরতির আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাকিস্তানের লিড ৪৩ রানে নামিয়ে আনে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইতিবাচক শুরু করলেও স্পিনারদের সামনে দ্রুতই খেই হারিয়ে ফেলে। সাজিদ খান তাগেরিন চন্দরপলকে এলবিডব্লিউ করে প্রথম আঘাত হানেন। এরপর সাজিদ আমির জাঙ্গুকে বোল্ড করেন এবং উসমান কাভেম হজকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন। শাই হোপ ও রস্টন চেজ কিছুটা সময় পার করার চেষ্টা করলেও স্পিনের সামনে টিকতে পারেননি। সাজিদ হোপ ও সিলসকে আউট করে নিজের চার উইকেট পূর্ণ করেন। দিনের শেষ দিকে চেজ উসমানের বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হলে মাত্র ৯৯ রানে ৩ উইকেট থেকে ১০৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চরম বিপাকে পড়ে। ব্রেন্ডন কিংয়ের ব্যাটিংয়ে নামার অনিশ্চয়তা এবং এই ধস ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চতুর্থ দিনের শুরুতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। জাস্টিন গ্রিভস অপরাজিত ১ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করবেন।





























