টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অসংখ্য কিংবদন্তি বোলিং লাইনআপ দেখা গেছে, তবে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড এবং নাথান লিয়নের বর্তমান অস্ট্রেলীয় চতুষ্টয় এক ঐতিহাসিক রেকর্ডের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন। জশ হ্যাজলউড ৩০০ উইকেটের মাইলফলক থেকে মাত্র পাঁচটি উইকেট দূরে রয়েছেন। এই মাইলফলক স্পর্শ করলে তারা টেস্ট ইতিহাসের প্রথম এমন বোলার চতুষ্টয় হবেন, যার প্রত্যেকেই ৩০০-এর বেশি উইকেট শিকার করেছেন। বর্তমানে এই চারজনের মোট টেস্ট উইকেটের সংখ্যা ১৬১০।
একত্রে খেলা ৩৫টি ম্যাচে এই চার বোলার ৫৬৭টি উইকেট শিকার করেছেন। প্রতি ম্যাচে গড়ে ১৬.২টি উইকেট নেওয়ার এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত চমকপ্রদ। তাদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ব্যবধানও খুব সামান্য; কামিন্স ১৫০টি এবং লিয়ন ১৩৪টি উইকেট নিয়েছেন। তাদের সম্মিলিত সাফল্যের হার বা উইন-লস রেশিও ২.৪৪৪, যা বিশ্বের অন্যান্য যেকোনো বোলিং জুটির চেয়ে অনেক এগিয়ে। উল্লেখযোগ্য যে, এই চারজন একসাথে খেলেছেন এমন কোনো অ্যাশেজ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া এখন পর্যন্ত পরাজিত হয়নি।
ঐতিহাসিকভাবে সফল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণ বা শেন ওয়ার্ন-গ্লেন ম্যাকগ্রাদের মতো কিংবদন্তি চতুষ্টয়ের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার এই চারজনের সাফল্য আলাদা গুরুত্ব বহন করে। তাদের মোট উইকেটের ৯৩.৮৭ শতাংশই এসেছে এই চারজনের হাত ধরে, যা অন্যান্য দলের ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষ করে ২০১৭/১৮ সালের অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার সব উইকেটই এই চারজন নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিলেন, যা টেস্ট সিরিজের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
নাথান লিয়ন তার ক্যারিয়ারে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন এবং টানা ১০০টি টেস্ট খেলে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। তার স্পিন বোলিংয়ের দক্ষতা দ্বিতীয় ইনিংসে সবচেয়ে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে, কামিন্স, স্টার্ক এবং হ্যাজলউড কেবল টেস্টেই নয়, বরং ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বর্তমানে কামিন্স বাদে বাকি তিনজনের বয়স ৩৫-এর কোঠায়, যার ফলে তাদের ক্যারিয়ার এখন শেষ পর্যায়ের দিকে। যদিও অস্ট্রেলিয়া তাদের উত্তরসূরি খুঁজে বের করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তবে এই চার বোলারের সম্মিলিত প্রভাব ও লিগ্যাসি টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।






























