দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম দিনেই নিজেদের শক্তির জানান দিল বাংলাদেশ। ডারউইনে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়াকে হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছে সফরকারীরা। দিনের শেষভাগে ব্যাট করতে নেমে তানজিদ তামিম ও মুমিনুল হকের অবিচ্ছিন্ন ৬০ রানের জুটিতে বাংলাদেশ ১ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান সংগ্রহ করেছে।
সকালের সেশনে ট্রাভিস হেড ও জেক ওয়েদারল্ড ৪৫ রানের জুটি গড়ে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে ওয়েদারল্ড অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটকিপারের গ্লাভসে ক্যাচ দিলে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের পতনের শুরু হয়। এরপর হাসান মাহমুদ রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে বল করে হেডকে বোল্ড করেন। প্রথম সেশন শেষ হওয়ার আগেই অস্ট্রেলিয়া ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে।
অস্ট্রেলিয়া পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও তা বুমেরাং হয়েছে। বিউ ওয়েবস্টার দুটি বাউন্ডারি মারার পর তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন। স্টিভ স্মিথ এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে গেলেও প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে আউট হন। নাজমুল হোসেন শান্তর সুনিপুণ বোলিং পরিবর্তনের কারণে অস্ট্রেলিয়া নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে।
ব্যক্তিগত ২ রানে স্লিপে জীবন পাওয়া স্টিভ স্মিথ শেষ পর্যন্ত ৭১ রান করে দলের স্কোর কিছুটা সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের বাউন্সারে বিভ্রান্ত হয়ে স্মিথ উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর হাসান মাহমুদ দ্রুতই তার ষষ্ঠ উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ইনিংসের ইতি টানেন। এদিন হাসান মাহমুদ ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন এবং ইবাদত হোসেন নিয়েছেন ২ উইকেট।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের ওপেনাররা শুরুতে কিছুটা সুবিধা পেলেও অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা লাইন ও লেংথের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হন। স্টার্কের বলে শাদমান ইসলাম ক্যাচ দিয়ে ফিরলে বাংলাদেশ একমাত্র উইকেটটি হারায়। তবে এরপর তানজিদ তামিম ও মুমিনুল হক ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে দিন শেষ করেছেন। মুমিনুল ৩৫ এবং তানজিদ ৩২ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশ এখন অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১০২ রানে পিছিয়ে আছে।




























