নোয়াখালীকে ‘সিটি করপোরেশন’ হিসেবে ঘোষণা ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়ন (এনইউজে)। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি লিয়াকত আলী খানের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহসভাপতি আজাদ ভূঁইয়া, সহসভাপতি তাজুল ইসলাম মানিক ও এস এম রিজোয়ান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ কামরুল কানন, সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানা লিটন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রাহাত, দপ্তর সম্পাদক নাসিম শুভ, ক্রীড়া সম্পাদক ফজলুল কাদের রাজু, এবং নির্বাহী সদস্য আকাশ মো. জসিম, সিরাজ উদ্দিন শাহিন, এমএস জামাল ও মো. সালাহ উদ্দিন। এছাড়াও সদস্য আজিজ আহমেদসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে নোয়াখালীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়, এটি দেশের অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী একটি জেলা। ৩ হাজার ৬৮৫ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর মাইজদীতে অবস্থিত। বর্তমানে জেলাটিতে ৯টি উপজেলা, ১০টি থানা ও ৮টি পৌরসভা রয়েছে। একসময় ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলাও নোয়াখালীর সীমানার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯-এর ৩(৪) ধারা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরে স্মারকলিপিতে জানানো হয়, প্রস্তাবিত নোয়াখালী সিটি করপোরেশনের মোট আয়তন হবে ৫৭ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার এবং এর জনসংখ্যা হবে প্রায় ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৯ জন। এই এলাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৭ হাজার ৯৪২ জন।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, নোয়াখালী পৌরসভা ও চৌমুহনী পৌরসভার মধ্যবর্তী দূরত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার। নোয়াখালী-কুমিল্লা ফোরলেন সড়কের মাধ্যমে নোয়াখালী পৌরসভার কাদির হানিফ ইউনিয়ন, একলাশপুর ইউনিয়ন ও চৌমুহনী পৌরসভা একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। এই সংযোগস্থলে ইতোমধ্যে পাটকল, এগ্রো প্রডাক্ট, পোল্ট্রি ফিড, হ্যাচারি, ফুড অ্যান্ড বেভারেজসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিকেল কলেজ, ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, বিসিক শিল্পনগরী ও বিমানবন্দর রয়েছে এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ চলমান আছে।
সাংবাদিক নেতারা জানান, গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা বিধিমালা ২০১০-এর বিধি ৪-এর শর্তানুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।
নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি লিয়াকত আলী খান বলেন, দল, মত ও ধর্ম নির্বিশেষে নোয়াখালীর সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি নোয়াখালীকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা। নোয়াখালী পৌরসভা, কাদির হানিফ ইউনিয়ন, নোয়ান্নই ইউনিয়নের একাংশ, একলাশপুর ইউনিয়ন ও চৌমুহনী পৌরসভাকে একত্রিত করে সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন করা হলে এই অঞ্চলের সার্বিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন।



























