ম্যাকায়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ঘণ্টার খেলাতেই মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের ওপর একাই তাণ্ডব চালিয়েছেন অজি পেসার মিচেল স্টার্ক, যিনি প্রথম ২২ বলের মধ্যে তুলে নিয়েছেন ৫টি উইকেট।
এই বিধ্বংসী বোলিংয়ের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন স্টার্ক। তিনি টপকে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ডেল স্টেইনের ৪৩৯ উইকেটের রেকর্ড। পেসারদের তালিকায় ৭০৪ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে আছেন জেমস অ্যান্ডারসন। অবশ্য এটি স্টার্কের দ্রুততম ফাইফার নয়; গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। সেই ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়েছিল মাত্র ২৭ রানে।
ম্যাচের প্রথম বলেই ওপেনার সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে শুরু করেন স্টার্ক। স্টার্কের ফুল লেংথ বল মিডউইকেটে খেলতে গিয়ে গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন সাদমান। এরপর তানজিদ হাসান খেলেন এক অলস শট। স্টার্কের ফুল লেংথ বল তানজিদের ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে ক্যাচ যায়। পরের বলেই আউট হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি, আম্পায়ার্স কলে বিদায় নিতে হয় তাঁকে। হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হলেও মুশফিকুর রহিম তা ঠেকিয়ে দেন।
কিছুক্ষণ পর তানজিদের মতোই আলগা শট খেলে বিদায় নেন মুমিনুল হক। স্টার্কের লেট সুইং করা ফুল লেংথ বলে পরাস্ত হয়ে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন তিনি। সবশেষে লিটন দাস স্টার্কের পঞ্চম শিকারে পরিণত হন। আগের বলেই স্টার্কের বাউন্সারে স্লিপে লিটনের সহজ ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন বো ওয়েবস্টার। কিন্তু পরের বলেই এলবিডব্লিউ হন লিটন। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও অস্ট্রেলিয়ার রিভিউতে সিদ্ধান্ত বদলায়। ৪ ওভারের মধ্যেই নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন স্টার্ক।
এই ধ্বংসস্তূপের মাঝে উঁকি দিচ্ছে টেস্টে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা। টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ২৬ রান। আর বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৩ রান।
ডারউইনে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচটি ড্র বা জয় পেলেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়বে তারা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ঘরের মাঠে গত ১৩৯ বছর ধরে কোনো দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই হয়নি। সর্বশেষ ১৮৮৭ সালে ইংল্যান্ডের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল তারা। সিডনিতে অনুষ্ঠিত সেই সিরিজের প্রথম টেস্টে ১৩ রান এবং দ্বিতীয় টেস্টে ৭১ রানে জিতেছিল ইংলিশরা। এরপর ঘরের মাঠে ১১০টি টেস্ট সিরিজ খেললেও কখনো সব ম্যাচ হারেনি অস্ট্রেলিয়া।
আজকের ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দলে এসেছে একটি পরিবর্তন—ইবাদত হোসেনের জায়গায় খেলছেন চোট কাটিয়ে ফেরা শরীফুল ইসলাম। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া দলেও একটি পরিবর্তন হয়েছে, জেক ওয়েদারাল্ডের জায়গায় খেলছেন ম্যাট রেনশ। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলছেন রেনশ।
ম্যাকায়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার টেস্ট ভেন্যু হিসেবে আজ অভিষেক হলো। প্রথম দিনের সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল এবং গ্যালারি ছিল দর্শকে ঠাসা। অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শহর থেকেও অনেক বাংলাদেশি দর্শক খেলা দেখতে এসেছেন স্টেডিয়ামে।
বাংলাদেশ একাদশ: সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ম্যাট রেনশ, ট্রাভিস হেড, মারনাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজলউড।
বাংলাদেশের বোলাররা নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ১৯৮ রানেই অলআউট করে দেয় স্বাগতিকদের।































