রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামের এলিট প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডের সাবেক কমান্ডার টম বায়াগাম্বা দীর্ঘ ১২ বছর বন্দি থাকার পর কারাগারে মারা গেছেন। মঙ্গলবার তার ভাই ও নির্বাসিত ভিন্নমতালম্বী ডেভিড হিম্বারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) এক বিবৃতিতে এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুর সময় বায়াগাম্বার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।
টম বায়াগাম্বা একসময় রুয়ান্ডার সামরিক বাহিনীতে কর্নেল পদমর্যাদায় ছিলেন, তবে পরে তার সেই পদ কেড়ে নেওয়া হয়। তার ভাই ডেভিড হিম্বারা রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্টের সাবেক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বায়াগাম্বার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে হিম্বারা বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি এক্সে লিখেছেন, "অত্যন্ত দুঃখের সাথে আমরা আমাদের প্রিয় ভাই কর্নেল টম বায়াগাম্বার মৃত্যুর ঘোষণা দিচ্ছি, যিনি রুয়ান্ডার কারাগারে বন্দি অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।"
রুয়ান্ডায় বায়াগাম্বাকে নিয়ে যেকোনো আলোচনা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও নিষিদ্ধ বিষয় হওয়ায় দেশটির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতির রক্ষীবাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে কোনো কারণ না দেখিয়েই সে বছর তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ধারণা করা হয়, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০১৪ সালের আগস্টে বায়াগাম্বাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে ব্রিগেডিয়ার ফ্র্যাঙ্ক রুসাগারা নামের আরেকজন সামরিক কর্মকর্তাকেও আটক করা হয়। ২০১৬ সালে দেশটির সামরিক উচ্চ আদালত রাষ্ট্রদ্রোহে উসকানি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তাদের দীর্ঘ মেয়াদের কারাদণ্ড দেয়। সহযোগী কর্মকর্তা ফ্র্যাঙ্ক রুসাগারাও গত বছর কারাগারে মারা যান। ২০১৯ সালে রুয়ান্ডার আপিল আদালত বায়াগাম্বার ২১ বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে ১৫ বছর নির্ধারণ করেছিল।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বহু সমালোচক এই বিচারপ্রক্রিয়াকে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, দেশে ও বিদেশে সরকারের সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করার যে নীতি রুয়ান্ডা সরকার অনুসরণ করে, এই মামলাটি তারই অংশ। তবে রুয়ান্ডা সরকার বিরোধীদের টার্গেট করার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। সমালোচকদের দাবি, প্রেসিডেন্ট কাগামের কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে দেশে ভিন্নমতের কোনো সুযোগ নেই। বহু জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা কাগামের সাথে বিরোধের জেরে দেশ ছেড়ে নির্বাসনে গেছেন।
১৯৯৪ সালের গণহত্যার পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া রুয়ান্ডাকে পুনর্গঠনের কৃতিত্ব দেওয়া হয় পল কাগামকে। তবে একই সাথে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন, স্বাধীন গণমাধ্যম দমন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও কাগাম নিজে সবসময় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।






























