আপনি এই মাসে মাত্র ২ টি ফ্রি নিবন্ধ পড়ার সীমা অতিক্রম করেছেন। মুজাফফরাবাদের মদিনা মার্কেট কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতা কাটিয়ে অবশেষে পুনরায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদ, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় এবং আইনসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলো অবস্থিত, সেখানে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফেরার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মিরপুরে আন্তঃনগর গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে, যা স্থানীয়দের পাকিস্তান ও আজাদ জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে যাতায়াতের সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে এলাকাটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি এখনো দৃশ্যমান।
গত ২৭ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত তিন মাসে অঞ্চলটিতে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। নির্বাচনটি বিতর্কিত ছিল এবং এতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ক্ষমতাসীন জোটের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এই নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। কোটলির এক স্কুলশিক্ষক তারিক রেহমান জানান, এই নির্বাচন ছিল একটি প্রহসন মাত্র, যেখানে সাধারণ মানুষের কল্যাণের চেয়ে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণই মুখ্য ছিল।
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর থেকেই পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এই অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ২০১৯ সালে ভারত সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর থেকে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরকে মূলধারায় আনার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয়রা বর্তমানে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন, যেখানে তারা নিজেদের পরিচয় নিয়ে সংকটে ভুগছেন। মুজাফফরাবাদের কারিগর মীর হামজা জানান, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। তার মতে, তাদের মৌলিক মানবাধিকারের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বর্তমানে রাওয়ালকোটে বিক্ষোভের কারণে এলাকাটি সাধারণের জন্য দুর্গম করে তোলা হয়েছে এবং গণমাধ্যমকে খবর প্রচারের ওপর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের পাশাপাশি যেকোনো সংবাদের জন্য 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট' (এনওসি) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডেইলি জেদোজহেদ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক সুলেহরিয়া জানান, তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পরিবারের তিন সদস্যকে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই ধরপাকড় মূলত জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে জেএএসি স্থানীয় সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের দাম এবং প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তাদের অন্যতম দাবি ছিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে আসা মুহাজিরদের জন্য ১২টি সংরক্ষিত আসন বাতিলের বিষয়টি। জেএএসি-কে বর্তমানে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার। অনেক নেতাকর্মী হয় আটক হয়েছেন অথবা আত্মগোপনে আছেন।
স্থানীয়দের একাংশ মনে করেন, আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট সহিংসতা ও ইন্টারনেট বন্ধের কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। অন্যদিকে, মিরপুরের পিএমএল-এন নেতা চৌধুরী মুহাম্মদ সাঈদ, যিনি সাম্প্রতিক নির্বাচনে তার আসন হারিয়েছেন, তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫০ শতাংশ, যা স্বাভাবিক ৬০ শতাংশের তুলনায় কম। তিনি দাবি করেন, কমিটির সব দাবি মেনে নেওয়া সত্ত্বেও তারা আসন সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে অহেতুক অস্থিরতা তৈরি করেছে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক সংস্কারের চেয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এই অঞ্চলের জন্য বেশি জরুরি।





























