যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ সম্প্রতি এক গোপন সফরে মস্কো গিয়েছেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর কোনো ধরনের হামলা না চালানোর জন্য রাশিয়াকে সতর্ক করা। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এমন আশঙ্কার প্রেক্ষিতে এই সফর অনুষ্ঠিত হয় যে, রাশিয়া ন্যাটোকে পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে।
সিআইএ পরিচালক হিসেবে এটিই তার প্রথম পরিচিত রাশিয়া সফর। মঙ্গলবার একটি মার্কিন বিমান বাহিনীর জেট বিমান মস্কোর একটি বিমানবন্দরে অবতরণ করতে দেখা গেলে এবং শহরে কূটনৈতিক গাড়িবহরের চলাচল লক্ষ্য করা গেলে এই গোপন সফরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার তথ্যমতে, সফরের বিষয়টি ইউক্রেনকে আগেভাগেই জানানো হয়েছিল এবং এই সময়ে কোনো ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছিল।
সফরের বিষয়ে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, র্যাটক্লিফ রাশিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছেন, তবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে তার কোনো বৈঠক হয়নি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেসকভ র্যাটক্লিফের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলোকে 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার প্রতি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করেছে।
এর আগে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পুতিন ন্যাটো অঞ্চলে সাইবার হামলা বা হাইব্রিড কার্যক্রমের মতো উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারেন, যা সরাসরি প্রচলিত সামরিক যুদ্ধের পর্যায়ে পড়বে না। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এর লক্ষ্য যুদ্ধ শুরু করা নয়, বরং ন্যাটোর ঐক্য এবং ন্যাটোর মিত্রদের রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসনের সদিচ্ছা যাচাই করা। সাম্প্রতিক সময়ে রোমানিয়ায় ড্রোন অনুপ্রবেশ, পোল্যান্ডে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রবেশ এবং ইউরোপজুড়ে সাইবার ও নাশকতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ন্যাটো সনদের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে জোটের অন্য সদস্যদের এগিয়ে আসার কথা। এটি এমন একটি বিধান যা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র কার্যকর করেছিল। তবে ট্রাম্প অতীতে ন্যাটোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সদস্য দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষায় পর্যাপ্ত অবদান রাখছে না বলে সমালোচনা করেছেন। এছাড়া র্যাটক্লিফ তার সফরে ইরানের বিষয়টিও উত্থাপন করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু না হলে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা, বিশেষ করে ড্রোন উৎপাদন এবং রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের বিষয়টিও মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।































