স্কটিশ অভিনেতা রবার্ট কার্লাইল তাঁর দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় অভিনয় জীবনের নানা স্মরণীয় অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। ‘দ্য ফুল মন্টি’র সেই বিখ্যাত স্ট্রিপটিজ (উন্মুক্ত নাচ) দৃশ্য ধারণের সময় দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল, তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি একে ‘ভীতিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর ক্যারিয়ার, সহ-অভিনেতা এবং ব্যক্তিগত নানা পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
কার্লাইল জানান, ‘দ্য ফুল মন্টি’ সিনেমার শেষ দৃশ্যে তাঁরা সত্যিই দর্শকদের সামনে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়েছিলেন। তবে সৌভাগ্যবশত দৃশ্যটি পেছন থেকে ধারণ করা হয়েছিল এবং এটি মাত্র একবারই শ্যুট করা হয়। পুরো দৃশ্যটি ধারণ করতে আড়াই দিন সময় লেগেছিল। একের পর এক পোশাক খোলার পর উপস্থিত নারী দর্শকেরা যখন বুঝতে পারেন যে সত্যিই চূড়ান্ত মুহূর্তটি আসতে চলেছে, তখন তাদের সেই উল্লাস ও প্রতিক্রিয়া ছিল রীতিমতো কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো।
৯৭ (97) নম্বর আইডিধারী ক্যাম্পবেল৯৭ (Campbell97) নামের এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে ‘হ্যামিশ ম্যাকবেথ’ সিরিজে ‘উই জক’ নামের কুকুরের সাথে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কার্লাইল জানান, তিনি আসলে প্রাণীদের সাথে কাজ করতে খুব একটা পছন্দ করেন না। কারণ তারা যে অভিনয় করছে তা বোঝে না এবং সামান্য রাস্তা পার হওয়ার দৃশ্যের জন্যেও ২০ (20)টির মতো টেক নিতে হয়। তবে ‘দ্য ফুল মন্টি’ টিভি শোতে পায়রাদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। পায়রাগুলো নির্দেশ মেনে কাঁধে এসে বসত। এরপর থেকেই তিনি পায়রা ভালোবাসেন, তবে কুকুর ততটা নয়।
গ্লাসগো আর্টস সেন্টারে ৮০ (80) দশকের শুরুতে থিয়েটারে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবন গড়ে দিয়েছিল। কার্লাইল মনে করেন, তখনকার দিনে স্কটিশ উচ্চারণের কারণে কাজ পাওয়া বেশ কঠিন ছিল, কারণ শন কনারি ছাড়া পর্দায় স্কটিশ উচ্চারণ তেমন শোনা যেত না। তবে ‘ট্রেনস্পটিং’ সিনেমাটি এই পরিস্থিতি বদলে দিতে বড় ভূমিকা রাখে। বর্তমানে আশির দশকের তুলনায় অনেক বেশি কর্মজীবী শ্রেণির (ওয়ার্কিং ক্লাস) অভিনেতারা বিনোদন জগতে সুযোগ পাচ্ছেন।
‘ইয়েস্টারডে’ সিনেমায় জন লেননের চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃত্রিম মেকআপ বা প্রস্থেটিক্সের কল্যাণে আয়নায় নিজেকে লেনন হিসেবে দেখে তিনি বেশ চমকে গিয়েছিলেন। এছাড়া নিজের পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘দ্য লিজেন্ড অব বার্নি থমসন’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, অভিনয়ের চেয়ে পরিচালনা অনেক বেশি কঠিন। কারণ একজন পরিচালককে প্রতিদিন ৫০০ (500)টিরও বেশি ঝামেলার সমাধান করতে হয়। কেন লোচ, ড্যানি বয়েল এবং অ্যালান পার্কারের মতো বিখ্যাত পরিচালকদের কাছ থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন।
‘ক্র্যাকার’ সিরিজে হিলসবরো ট্র্যাজেডির শিকার আলবি কিনসেলা চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১৯৮৯ সালের সেই ঘটনার পর সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর আপত্তিকর প্রতিবেদন এবং পুলিশের আচরণ লিভারপুলের মানুষের মনে যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল, তা থেকেই তিনি চরিত্রটির অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।
থিয়েটার নিয়ে কার্লাইল বলেন, মঞ্চে অভিনয় অত্যন্ত কঠিন পরিশ্রমের কাজ। তাই শতভাগ ভালোবাসা না থাকলে দর্শকদের ঠকানো ঠিক নয়। অন্যদিকে, ওয়াসিস (Oasis)-এর ‘লিটল বাই লিটল’ মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করায় ব্লার (Blur)-এর ডেমন অ্যালবার্ন তাঁর ওপর কিছুটা অভিমান করেছিলেন। এছাড়া ৭৭ (77) নম্বর আইডিধারী ডার্কঅ্যানিমিকআই৭৭ (DarkAnaemicI77) নামের এক ভক্তের কাল্পনিক লাইফবোটের খেলায় তাঁর সহ-অভিনেতাদের মধ্যে কাকে প্রথম খাবেন—এমন রসাত্মক প্রশ্নে তিনি কৌতুক করে কেভিন ম্যাককিডের নাম নেন, কারণ কেভিন দীর্ঘদিন লস অ্যাঞ্জেলেসে ভালো খাবার খেয়ে স্বাস্থ্যবান আছেন!































