ম্যাসাচুসেটসের আলোচিত লিন্ডসে ক্ল্যানসি হত্যা মামলায় উভয় পক্ষের আইনজীবীদের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট আদালতে প্রসিকিউশন ও ডিফেন্স উভয় পক্ষ নিজেদের সপক্ষে শেষবারের মতো যুক্তি তুলে ধরেন। সপ্তাহব্যাপী কয়েক ডজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর এখন মামলাটি জুরির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ৩৬ বছর বয়সী লিন্ডসের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তাঁর তিন সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারিতে নিজেদের বাড়িতে লিন্ডসে ক্ল্যানসি তাঁর ৫ বছর বয়সী মেয়ে কোরা, ৩ বছর বয়সী ছেলে ডসন এবং ৮ মাস বয়সী শিশু ক্যালানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর লিন্ডসে নিজের হাত ও গলা কেটে দোতলার জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, যার ফলে তিনি বর্তমানে পক্ষাঘাতগ্রস্ত। এই মামলায় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
২৭ আগস্ট আদালতে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য উভয় পক্ষকে এক ঘণ্টা করে সময় দেওয়া হয়েছিল। প্লাইমাউথ কাউন্টির সহকারী জেলা অ্যাটর্নি জেনিফার স্প্রাগ এবং শ্যানন বাকিংহাম গত ১৪ দিনে ৭০ জনেরও বেশি সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর ১৭ আগস্ট তাদের পক্ষে মামলা শেষ করেন। অন্যদিকে, লিন্ডসের আইনজীবী কেভিন রেডিংটন ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে ২১ আগস্ট তাদের পক্ষে মামলা শেষ করেন। এরপর প্রসিকিউশন আরও তিনজন খণ্ডনকারী সাক্ষী হাজির করে।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় সহকারী জেলা অ্যাটর্নি জেনিফার স্প্রাগ দাবি করেন, লিন্ডসে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ও ঠান্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি তাঁর স্বামীকে খাবার ও ওষুধ আনার জন্য বাইরে পাঠিয়ে এই সুযোগ তৈরি করেন। স্প্রাগ বলেন, লিন্ডসে তাঁর সন্তানদের বেসমেন্টে নিয়ে আলাদা আলাদা ঘরে ব্যায়ামের ব্যান্ড দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। তিনি লিন্ডসেকে একজন "নিয়ন্ত্রণকামী ও কৌশলী" মা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, লিন্ডসে জানতেন কী ভুল আর কী সঠিক। তিনি চিকিৎসকদের কাছে তাঁর মানসিক অবস্থা নিয়ে মিথ্যা বলেছিলেন যাতে সন্তানদের কাস্টডি হারাতে না হয়। স্প্রাগের ভাষায়, "তিনি বিষণ্ণ ও ক্লান্ত ছিলেন এবং আর চেষ্টা করতে চাননি। তিনি সন্তানদের বেসমেন্টের মেঝেতে ভাঙা খেলনার মতো ফেলে রেখেছিলেন, কারণ তাঁর খেলা শেষ হয়ে গিয়েছিল।"
অন্যদিকে, লিন্ডসের আইনজীবী কেভিন রেডিংটন দাবি করেন যে তাঁর মক্কেল নির্দোষ। কারণ ঘটনার সময় তিনি প্রসবোত্তর মারাত্মক বিষণ্ণতা (postpartum depression) এবং সাইকোসিসে ভুগছিলেন, যার কারণে তাঁর অপরাধের দায় নেওয়ার মতো মানসিক অবস্থা ছিল না। রেডিংটন চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা ও অতিরিক্ত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে দায়ী করেন। তিনি আদালতে লিন্ডসের ডায়েরি এবং টেক্সট মেসেজ প্রদর্শন করে দেখান যে তিনি কতটা হতাশার মধ্যে ছিলেন। রেডিংটন লিন্ডসেকে একজন প্রেমময় মা এবং নার্স হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি প্রসিকিউশনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন যে লিন্ডসের আত্মহত্যার চেষ্টাটি গুরুতর ছিল না। তিনি বলেন, "এটি ছিল একটি সত্যিকারের ও ভয়াবহ আত্মহত্যার চেষ্টা।"
বিচারক উইলিয়াম সুলিভানের চূড়ান্ত নির্দেশনার পর এখন জুরি বোর্ড লিন্ডসে ক্ল্যানসির ভাগ্য নির্ধারণে আলোচনা শুরু করবে।





























