ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আমির বারাম বুধবার রাইখম্যান ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হার্জলিয়া সম্মেলনে এই কৌশলগত পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে। এ কারণে ভারত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে গ্রিস ও সাইপ্রাস পর্যন্ত একটি বৃহত্তর জোট গঠনের অভিন্ন স্বার্থ তৈরি হয়েছে।
এই কৌশলের অংশ হিসেবে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং ভারতকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতাভুক্ত দেশগুলোর মাধ্যমে যুক্ত করার বিষয়টি ইসরাইলের বৈশ্বিক নীতির অন্যতম উপাদান হয়ে উঠেছে। গত এক দশকে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক বেশ জোরদার হয়েছে। গ্রিসের সংবাদমাধ্যম একাথিমেরিনির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটি ইসরাইলের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ইউরোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার একটি বড় চুক্তির অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। 'অ্যাকিলিস শিল্ড' নামের এই কর্মসূচির আওতায় রাফায়েলের তৈরি স্পাইডার অল-ইন-ওয়ান, ডেভিডস স্লিং এবং ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) বারাক এমএক্স ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে রোমানিয়াও ইসরাইলের স্পাইডার ব্যবস্থা কিনেছিল।
গ্রিস ও সাইপ্রাসের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গেও ইসরাইলের সম্পর্ক দিন দিন আরও দৃঢ় হচ্ছে। তবে ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলা এবং পরবর্তী গাজা যুদ্ধ আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে সম্পর্ককে জটিল করে তুলেছে। যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত সাধারণত বড় ঝুঁকি এড়াতে চায়, তবুও তারা ইয়েমেন, লিবিয়া, সুদান ও হর্ন অব আফ্রিকায় বিভিন্ন পররাষ্ট্রনীতিতে জড়িয়েছে, যার কিছু ক্ষেত্রে তারা হতাশও হয়েছে। আমির বারাম মনে করেন, ইরান দ্রুত তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তাই কৌশলগত মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশকে সঙ্গে নিয়ে একটি নতুন আঞ্চলিক কাঠামো প্রস্তুত করা প্রয়োজন।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় দেশগুলোর মাধ্যমে ইসরাইল ও ভারতকে যুক্ত করে একটি ‘নতুন মধ্যপ্রাচ্য’ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। তবে ৭ অক্টোবরের আগের পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন থমকে গেছে। রিয়াদ চায় ইসরাইল যেন ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে নমনীয় নীতি অবলম্বন করে। পশ্চিম তীরে সহিংসতা, সিরিয়ায় হামলার হুমকি কিংবা মিসরের মতো সুন্নি শক্তির সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর আলোচনাকে রিয়াদ ইতিবাচকভাবে দেখছে না। এমনকি গাজায় ইহুদি বসতি স্থাপনের আলোচনাও সৌদি আরবকে বিরক্ত করেছে। ইসরাইলি নেতারা বাণিজ্যের চেয়ে সংঘাতকে বেশি গুরুত্ব দিলে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চল হয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করিডর গড়ার পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে রিয়াদ জর্ডান, সিরিয়া ও তুরস্ক হয়ে বিকল্প বাণিজ্য পথ বেছে নিতে পারে।





























