আগামী ১ সেপ্টেম্বর টিম কুক অ্যাপলের দায়িত্ব জন টার্নাসের কাছে হস্তান্তর করতে যাচ্ছেন। ১৯৯৮ সাল থেকে অপারেশনস চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কুক অ্যাপলের জন্য অত্যন্ত দক্ষ এক উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। তবে এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে চীনভিত্তিক সাপ্লাই চেইনের এক অন্ধকার অধ্যায়।
চায়না লেবার ওয়াচ-এর সাম্প্রতিক এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, অ্যাপলের সাপ্লাই চেইনে শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়, বরং এগুলো তাদের উৎপাদন মডেলেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সাল থেকে চীনের সাপ্লাই চেইন নিয়ে ১৯টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, অ্যাপলের সাপ্লাই চেইন মূলত সস্তা শ্রম, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং চরম নমনীয় সময়সূচীর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
অ্যাপলের দ্রুতগতির উৎপাদন চক্র এবং বিশাল অর্ডারের চাপে সাপ্লাই চেইন কারখানাগুলো হিমশিম খায়। মুনাফা নিশ্চিত করতে কারখানাগুলো প্রায়ই শ্রমিকের বেতন ও কর্মঘণ্টার ওপর চাপ প্রয়োগ করে। ফক্সকনের ঝেংঝু কারখানায় ২০১৯ সালে মজুরি বকেয়া রাখা এবং বেআইনিভাবে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। ২০২২ সালে একই কারখানায় নিয়োগের সময় প্রতিশ্রুত বেতন না পাওয়ায় শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এমনকি ২০২৫ সালেও সেখানে আইনি সীমার চেয়ে বেশি চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক ব্যবহারের তথ্য মিলেছে।
চলতি বছরের আগস্টে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঝেংঝু কারখানায় একজন পূর্ণকালীন শ্রমিকের মূল বেতন মাসে ২,৪৫০ ইউয়ান, যা স্থানীয় ন্যূনতম বেতনের সামান্য বেশি। ৪,২০০ ইউয়ান আয় করতে তাকে সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়, যা আইনি সীমার চেয়ে অনেক বেশি। অথচ অ্যাপলের বার্ষিক মুনাফা ১১২ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এই শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা প্রতিষ্ঠানের জন্য খুব সামান্য ব্যয় সাপেক্ষ হতো।
অ্যাপল তাদের সাপ্লাই চেইনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ও ডেলিভারির সময়সীমাকে যে গুরুত্ব দেয়, শ্রম অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত। বছরের পর বছর ধরে ফক্সকনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের ক্ষেত্রে শ্রম বিরোধ ও আত্মহত্যার ঘটনার পরও অ্যাপল কেবল অডিট বা কোড অফ কন্ডাক্ট ব্যবহারের মাধ্যমে দায় সেরেছে।
টিম কুক অ্যাপলকে শিখিয়েছেন কীভাবে একটি আইফোন তৈরি করতে হয়, কিন্তু কর্মীদের কল্যাণের দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেননি। এখন জন টার্নাসের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো এই উৎপাদন ব্যবস্থার দায়ভার গ্রহণ করা। এই ঋণের বিষয়টি কোম্পানির সাপ্লাই রেসপন্সিবিলিটি রিপোর্টে হয়তো উঠে আসবে না, তবে কারখানাগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের অভিজ্ঞতায় তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে।































