নরওয়ের রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ডের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পুরো দেশ। ৮৯ বছর বয়সে রাজা মারা যাওয়ার পর শনিবার হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ওসলোর রাজপ্রাসাদের সামনে ভিড় করেন। তারা রাজপ্রাসাদের সামনের চত্বর স্লটসপ্লাসেন-এ ফুল ও শোকবার্তা রেখে প্রয়াত রাজার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। নরওয়ের সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাসাদ চত্বরে পড়ে থাকা ফুলের তোড়াগুলোর ভিড় সামলাতে প্রাসাদের মালীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া রাতে বৃষ্টির কারণে ভিজে যাওয়া শোককার্ডগুলোও সংগ্রহ করা হচ্ছে যাতে সেগুলো ভবিষ্যতে সংরক্ষণ করা যায়।
নরওয়ের বিভিন্ন শহর ও গির্জাগুলোতেও শোকের আবহ বিরাজ করছে। শোকবইয়ে নিজেদের অনুভূতি লেখার জন্য এবং মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রয়াত রাজার প্রতি সম্মান জানানোর জন্য গির্জা ও সিটি হলগুলো বিশেষভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে ওসলোর ন্যাশনাল হাসপাতাল থেকে রাজার কফিন রাজপ্রাসাদে আনা হয়। শোক প্রকাশ করতে আসা ৪৬ বছর বয়সী রনি এরভিক বলেন, এটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও আবেগঘন একটি মুহূর্ত। তিনি তার পরিবারের পক্ষ থেকে রাজার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সময় কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নিজের হাত বুকে চেপে ধরেন।
রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড শুক্রবার সকালে মারা যান। তার মৃত্যুর পরপরই ৫৩ বছর বয়সী ক্রাউন প্রিন্স হকোন রাজা হকোন অষ্টম হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেন। নতুন রাজা তার প্রপিতামহের ব্যবহৃত 'অল ফর নরওয়ে' বা 'সবই নরওয়ের জন্য' মূলমন্ত্রটি গ্রহণ করেছেন। তার স্ত্রী মেট-মারিট এখন রানি এবং বড় মেয়ে ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রা ক্রাউন প্রিন্সেস ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হয়েছেন। হকোন তার বাবার অসুস্থতার সময় বেশ কয়েকবার রাজপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই রাজকীয় দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই অভিজ্ঞ।
শনিবারের পরবর্তী সময়ে রাজপ্রাসাদ চত্বরে একটি গায়কদলের সংগীত পরিবেশন করার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে নতুন রাজা নরওয়ের পার্লামেন্টের স্পিকার, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং লুথেরান চার্চের বিশপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন রাজা খুব শীঘ্রই জাতির উদ্দেশ্যে তার প্রথম ভাষণ দেবেন।
যদিও রাজা হকোন অষ্টম আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন, তবে তাকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে তার স্ত্রী রানি মেট-মারিটের সঙ্গে মৃত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের অতীতের যোগাযোগ এবং তার সৎ ছেলের বিরুদ্ধে থাকা ধর্ষণের মামলার মতো বিতর্কগুলো। এসব বিষয়ে রাজতন্ত্রের প্রতি জনগণের সমর্থন ধরে রাখা হবে তার অন্যতম প্রধান কাজ। এদিকে, রাজার শেষকৃত্যের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। শোকের এই সময়ে অনেকে তাদের বিয়ে বা বাপ্তিস্মের মতো উৎসবগুলো পিছিয়ে দিয়েছেন। নরওয়ের রাজতন্ত্রের ইতিহাস নবম শতাব্দীতে রাজা হ্যারাল্ড ফেয়ারহেয়ারের আমল থেকে চলে আসছে। ১৯০৫ সালে সুইডেন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর এক জাতীয় গণভোটে তিন-চতুর্থাংশ মানুষ রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পক্ষে রায় দিয়েছিল। বর্তমানে নরওয়ের রাজতন্ত্র মূলত প্রতীকী, তবে দেশটির রাজপরিবার বিশ্বজুড়ে নরওয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।































