উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে ২৬৭ জন আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী ফেরিডুবির ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৩ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তবে উদ্ধারকারীরা ২৩৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
উত্তর সাইপ্রাসের তুর্কি প্রজাতন্ত্রের (টিআরএনসি) প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল রবিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধারকাজের জন্য সব ধরনের সরকারি সম্পদ নিয়োজিত করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষও নিজেদের নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন। জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিমগুলোকে। প্রধানমন্ত্রী উস্তেল প্রথমে ১৭২ জনকে উদ্ধারের কথা জানালেও পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মানুষের সংখ্যা ২৩৭ জনে পৌঁছায়।
প্রধানমন্ত্রী উস্তেল আরও জানান, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ফেরিটি নির্ধারিত সময়ের একদিন পর তুরস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। কিন্তু সাগরে যাওয়ার পর এটি প্রথম একটি বড় ঢেউয়ের আঘাতের মুখে পড়ে। ক্যাপ্টেন যখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই দ্বিতীয় আরেকটি ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে এটি উল্টে যায়।
তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এনসোশ্যাল'-এ এক পোস্টে জানিয়েছেন, তুরস্ক ও উত্তর সাইপ্রাসের কোস্টগার্ড এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উদ্ধার অভিযান বিরতিহীনভাবে চলছে। যাত্রীদের জীবন বাঁচানোই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি আরোহীদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে উদ্ধার তৎপরতায় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত এই যাত্রীবাহী ফেরিটি গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তর সাইপ্রাসের গিরনে বন্দর থেকে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় মেরসিন প্রদেশের তাসুচু বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। কিন্তু বন্দর ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এটিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং ক্যাপ্টেন জরুরি সংকেত পাঠান।
টিআরএনসির গণপূর্ত ও পরিবহন মন্ত্রী এরহান আরিকলি জানান, ফেরিটিতে ২৫৯ জন যাত্রী এবং ৮ জন ক্রুসহ মোট ২৬৭ জন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ফেরিতে পানি ঢুকতে শুরু করলে প্রাণ বাঁচাতে অনেক যাত্রী সাগরে ঝাঁপ দেন। স্থানীয় মাছ ধরার নৌকাগুলোও উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দিয়েছে।





























