জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণের দাবি তুলেছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন। শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি এই প্রক্রিয়া দ্রুত সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নোটিশের মাধ্যমে তিনি জানতে চান, সরকার এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আর কত সময় নেবে। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া একদিন বা সাত দিনে সহজ করতে পারে, তবে আমাদের সরকারের ৬ মাস অতিবাহিত হচ্ছে—এই প্রক্রিয়া সহজীকরণ করতে আর কতদিন লাগবে? তিনি আরও বলেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে অনেক শিক্ষিত যুবক বেকার হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এ প্রশ্নের জবাবে জানান, বিষয়টি জনগণের স্বার্থে সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে যেকোনো সরকারি ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ৭১ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। তিনি আরও বলেন, ক্রয়কার্যে সীমিত দরপত্র পদ্ধতি (এলটিএম) এবং উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) অনুসরণ করা হয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এই আইন ও বিধি প্রণয়ন করে।
সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন দাবি করেন, বিগত সরকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ গলা টিপে ধরেছিল। বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর এই প্রক্রিয়া সহজ করলে শিক্ষিত বেকার যুবকসহ সাধারণ মানুষ কাজের সুযোগ পাবে। এমনকি চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরাও এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, 'মাননীয় মন্ত্রী, ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?'
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এর উত্তরে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল কারণ তারা আইন বা নিয়মের বাধ্যবাধকতায় ছিল না। বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আইন মেনে কাজ করতে দায়বদ্ধ। তবে মোশারফ হোসেনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, তার প্রস্তাব অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত এবং সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য সার্বিক অর্থনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানান।




























