জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুরে এক নারীকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে মো. ছাত্তার আলী, কয়ড়ার পাড়া এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে আব্দুল মালেক এবং মৃত নায়েব আলীর ছেলে মো. আনোয়ার। অপহরণের পৃথক দায়ে আদালত তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী রশিদপুর ভাটিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে তার স্বামী ঢাকায় চলে যাওয়ায় তিনি ছোট সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে একা থাকতেন। এই সুযোগে প্রতিবেশী ছাত্তার আলী দীর্ঘদিন ধরে তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে ছাত্তার আলী ও তার সহযোগীরা ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলতে বাধ্য করেন। আসামিরা তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে যান। সেখানে আব্দুল মালেক ও আনোয়ার পাহারায় থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেন। ঘটনার পর কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দিয়ে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরদিন ভুক্তভোগী নারী বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। তাদের পরামর্শে ২২ অক্টোবর জামালপুর থানায় ছাত্তার আলী, আব্দুল মালেক ও আনোয়ারসহ অজ্ঞাতনামা আরও একজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই কঠোর রায় প্রদান করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে অপহরণের দায়ে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ছাত্তার আলী ও তার সহযোগীরা ওই নারীর বাড়ির সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে তিনি দরজা খুললে চার্জার লাইট ও চাঁদের আলোয় আসামিদের দেখতে পান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিছু বুঝে ওঠার আগেই আব্দুল মালেক গামছা দিয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলেন।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ





























