জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচা-ভাতিজা নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১২ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে চলা তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এখন চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহত মহর আলী ও স্বপন মিয়ার স্বজনরা। জামালপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এই রায় ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ। মোস্তফার বাড়ি চিনতে না পেরে পুলিশ রাস্তার পাশে থাকা প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে সাহায্য চায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। অভিযোগ রয়েছে, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে মোস্তফা মহর ও স্বপনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে সাখাওয়াত ও সোহেল নামের দুই ব্যক্তি মহর ও স্বপনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার অজুহাতে তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে তাদের হত্যা করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর পাটখেত থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মহর আলী (১৭) মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং স্বপন মিয়া (১৬) সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনের বিরুদ্ধে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং আটজনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। বর্তমানে অভিযোগপত্রভুক্ত ১৪ আসামি—সাখাওয়াত, সোহেল, চাঁন মিয়া, মো. জিয়ার, আল আমিন, সাদ্দাম, শাহ আলম, উজ্জল, অন্তর, কাওসার, ফয়জুর, রিফাত, সুমন ও মোস্তফা কারাগারে রয়েছেন।
নিহতদের পরিবারের দাবি, মহর ও স্বপন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল না। তাদের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে উপস্থাপন করে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নিহত মহরের ভাই জোবাইদ আলম জানান, তারা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
জেলা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাংগঠনিক সম্পাদক আসমাউল আসিফ এই ঘটনাকে অত্যন্ত নৃশংস ও আলোচিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম জানান, মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে তিনি আশাবাদী।
সূত্র: Daily Amar Desh





























