নিজের স্ত্রীকে অচেতন করে আরও এক ডজন পুরুষের সহায়তায় ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে এক ব্যক্তির বিচার শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত ওই স্বামীর বয়স ষাটের কোঠায় এবং তিনি উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের স্টকপোর্ট শহরের বাসিন্দা। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই বিচার প্রক্রিয়ায় তার সঙ্গে আরও ১২ জন অভিযুক্তও কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগী স্ত্রীর পরিচয় গোপন রাখতে অভিযুক্ত স্বামীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ ও ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অচেতন করার জন্য ওষুধ খাইয়েছিলেন এবং অন্যদের সঙ্গে মিলে তাকে ধর্ষণের ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিবিসি নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে মোট ৪৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে। শুরুতে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ১৫টি অভিযোগে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। এর মধ্যে রয়েছে ৫টি ধর্ষণের অভিযোগ, ৩টি যৌন নিপীড়ন, ৬টি অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যৌন নির্যাতন (অ্যাসাল্ট বাই পেনিট্রেশন) এবং ১টি অন্তরঙ্গ ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ।
তবে তিনি এখনও বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ অস্বীকার করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি ধর্ষণের অভিযোগ, ২টি ধর্ষণের চেষ্টা, ৭টি অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যৌন নির্যাতন, ৪টি যৌন নিপীড়ন, ৪টি ধর্ষণের ষড়যন্ত্র, ৩টি অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের ষড়যন্ত্র, ১টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ক্ষতিকর উপাদান প্রয়োগের ষড়যন্ত্র এবং ১টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ক্ষতিকর উপাদান প্রয়োগের অভিযোগ।
এই মামলায় বিচারের মুখোমুখি হওয়া অন্য ১২ জন পুরুষের বয়স ২৮ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীকে যৌন নির্যাতন করা থেকে শুরু করে তাকে অচেতন করার জন্য ওষুধ বা অন্যান্য উপাদান খাইয়ে এই অপরাধে সহায়তা করার মতো বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি ২০২৪ সালের ফ্রান্সের ঐতিহাসিক জিসেল পেলিকট (Gisèle Pelicot) মামলার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ফ্রান্সে জিসেল পেলিকট তার পরিচয় গোপন রাখার অধিকার ত্যাগ করে তার সাবেক স্বামী ডমিনিক পেলিকট ও আরও ৫১ জন পুরুষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। প্রায় এক দশক ধরে ডমিনিকের আমন্ত্রণে জিসেলকে অচেতন করে গণধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত সব পুরুষই দোষী sabhyasto হয়েছিলেন এবং ডমিনিককে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

























