মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইরানের তিনটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, প্রয়োজন হলে তারা ইরানের সীমিত এবং অরক্ষিত তেলবাহী নৌবহর পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলে টহল দেওয়ার সময় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী এবং একটি ডেস্ট্রয়ার "একাধিক উসকানিহীন ইরানি হামলা" সফলভাবে প্রতিহত করেছে। এই ঘটনায় মার্কিন কোনো সেনাসদস্য বা কর্মী হতাহত হননি। হামলায় দুটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কার "স্থায়ীভাবে অচল" হয়ে গেছে এবং খালি থাকা তৃতীয় ট্যাঙ্কারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আক্রান্ত এই তেল ট্যাঙ্কারগুলো একটি ছায়া নেটওয়ার্কের অংশ ছিল, যা ইরানের শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়নে সহায়তা করত। এর আগে, পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপের কাছে একটি ইরানি ট্যাঙ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার অভিযোগ তুলেছিল তেহরান।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপের কাছে একটি এবং জাস্কের কাছে আরেকটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া খালি থাকা তৃতীয় ট্যাঙ্কারটিতে আঘাত করা হয়েছে ওমান উপসাগরে। হামলার প্রমাণ হিসেবে মার্কিন বাহিনী ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধটি পর্যায়ক্রমে কখনো তীব্র, আবার কখনো শান্ত রূপ নিচ্ছে। প্রায় এক মাসের আপেক্ষিক শান্ত অবস্থার পর সপ্তাহখানেক আগে দুই পক্ষ আবারও পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধনের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এর মধ্যে শান্তি আলোচনাও ভেস্তে গেছে
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, "মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করতে আমরা কোনো দ্বিধা করব না এবং প্রয়োজন হলে ইরানের সীমিত ও অরক্ষিত তেলবাহী বহর ধ্বংস করে দেওয়া হবে।"



























