মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং নতুন বৃষ্টি বলয়ের প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টির এই প্রবণতা আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে এসব এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কয়েক দিনের বিরতির পর সোমবার থেকে পুনরায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এই ধারার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীতেও ঝুম বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ছয়টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে সর্বোচ্চ ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া নওগাঁর বদলগাছী ও নীলফামারীর ডিমলায় ৭৯ মিলিমিটার, নেত্রকোনায় ৬২, কুতুবদিয়ায় ৬১, কক্সবাজারে ৫৪, বান্দরবানে ৫০, ফেনীতে ৪৭ এবং ঢাকায় ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, আজ সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার হিসাবে নেত্রকোনায় সর্বোচ্চ ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর পরেই রয়েছে চাঁদপুর (৭৬ মিলিমিটার) ও ময়মনসিংহ (৭৫ মিলিমিটার)। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, শনিবার পর্যন্ত এই বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা আরও জানান, বুধবার থেকে সারাদেশে বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেও বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বৃষ্টির উপস্থিতিতেও ভ্যাপসা গরম থেকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগামী দুই দিনে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং সংলগ্ন উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বা সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এছাড়া সোমেশ্বরী, কংস ও ভুগাই নদীর পানি বাড়ায় নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।































