গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরিতে নতুন করে অগ্নুৎপাত শুরু হয়েছে। সোমবার সকালে শুরু হওয়া এই অগ্নুৎপাত রাতের দিকে আরও তীব্র আকার ধারণ করে। আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভার স্রোত এবং ছাইয়ের বিশাল মেঘ প্রায় ৪ মাইল উচ্চতায় ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে ধারণ করা ছবিতে আগ্নেয়গিরির ওপর গ্যাস ও ছাইয়ের ঘন মেঘ দেখা গেছে।
গুয়াতেমালার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (CONRED) সোমবার দেশজুড়ে কমলা সতর্কতা জারি করেছে। এটি সর্বোচ্চ লাল সতর্কতার ঠিক এক ধাপ নিচের স্তর। অগ্নুৎপাতের ভয়াবহতা বিবেচনায় আগ্নেয়গিরি থেকে ২২ মাইল দূরে অবস্থিত রাজধানী গুয়াতেমালা সিটির নিকটবর্তী দুটি গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জরুরি পরিষেবার ফুটেজে দেখা গেছে, ১২,৩৪৬ ফুট উঁচু এই আগ্নেয়গিরির ঢাল দিয়ে লাভার স্রোত নেমে আসছে এবং আকাশ লাল বর্ণ ধারণ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা মঙ্গলবার এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির গ্যাস, ছাই, পাথর ও উচ্চ তাপমাত্রার মিশ্রণ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচের দিকে নেমে আসছে।
দেশটির ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলোজি জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিটি এখন আরও শক্তিশালী বিস্ফোরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বসবাসকারী মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর আগে গত বছর ফুয়েগো আগ্নেয়গিরি থেকে গ্যাস ও ছাই নির্গত হওয়ায় ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের অগ্নুৎপাতে প্রায় ১২০০ মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। ২০১৮ সালের ভয়াবহ অগ্নুৎপাতে লাভার স্রোতে একটি গ্রাম ধ্বংস হয়ে যায় এবং ২১৫ জন প্রাণ হারান, এছাড়া আরও অনেকে নিখোঁজ ছিলেন। গুয়াতেমালা প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার'-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা দেখা দেয়।
































