পরিবহন খাতে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিন প্রায় ১২৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে এবং অপচয় হচ্ছে ৯ কোটি কর্মঘণ্টা। এই সংকট নিরসন ও সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে অবৈধভাবে খোলা ক্যাসকেড সিলিন্ডারে গ্যাস বিক্রি বন্ধের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে ‘২৪ ঘণ্টা সিএনজি (গ্যাস) সরবরাহ বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদ’। মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি তাদের ৫ দফা দাবি তুলে ধরে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের আহ্বায়ক বেলাল আহমেদ। তিনি জানান, ২০০২ সালে দেশে পরিবেশবান্ধব সিএনজিচালিত যানবাহনের যাত্রা শুরু হওয়ার পর বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ গাড়ি সড়কে চলাচল করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম ১৫ পিএসআই চাপ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মিলছে মাত্র ৪ থেকে ৫ পিএসআই।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রেখে যানবাহনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পাম্প থেকে অবৈধভাবে সিলিন্ডার বা কাভার্ডভ্যানে গ্যাস বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে, সিএনজি স্টেশনগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত ৪.৫০ শতাংশ গ্যাসের জন্য পৃথক লাইন স্থাপন করা, যাতে এই গ্যাস অন্য কোনো খাতে ব্যবহার করা না যায়। এছাড়া কেবল বৈধ সিএনজিচালিত যানবাহনেই গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ দাবিতে বলা হয়েছে, ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে গ্যাস প্রদান, ভিআইপি সুবিধা বাতিল, কৃত্রিম সংকট ও মিটার কারসাজি রোধ এবং ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের আহ্বায়ক বেলাল আহমেদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হলে আগামী ১৬ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) গোলটেবিল বৈঠক করা হবে। এরপর ২৪ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণজমায়েত এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি পালন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব মো. গোলাম ফারুকসহ সিএনজিচালিত পরিবহন খাতের বিভিন্ন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: যুগান্তর































