কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ওকানাগান হ্রদের তীরবর্তী পিসল্যান্ড শহরের বাসিন্দা আর্ল কার্জ এবং তার স্ত্রী গত ৩০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন। গত এক দশকে দাবানলের হুমকি তাদের কাছে পরিচিত বিষয় হয়ে উঠলেও, এবারই প্রথম তারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। শুক্রবার শুরু হওয়া ‘বাল্ড রেঞ্জ’ দাবানল মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৫৩ বর্গমাইল (১৩৬ বর্গ কিলোমিটার) এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। কার্জ জানান, দাবানলের কবলে পড়া এলাকাগুলো এখন ছাইয়ে পরিণত হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি এবং কতগুলো বাড়ি পুড়ে গেছে, তা নিরূপণে কাজ করছেন কর্মকর্তারা।
এই অঞ্চলের ১২ হাজারেরও বেশি বাসিন্দার ওপর বর্তমানে উচ্ছেদ আদেশ বলবৎ রয়েছে। দাবানল থেকে পালানোর সময় ৮০ বছর বয়সী এক নারী মারা গেছেন বলে রোববার নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আবহাওয়া অফিস শুকনো বজ্রপাত, উচ্চ তাপমাত্রা এবং বাতাসের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ওকানাগান বেসিন ওয়াটার বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে তীব্র খরায় ভুগছে ওকানাগান এলাকা। জুলাই মাসে ওকানাগান হ্রদের পানির স্তর ১৯৯২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
সোমবার পর্যন্ত ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় ১০০টিরও বেশি দাবানল জ্বলছে, যার মধ্যে ৭০টিই গত এক সপ্তাহে শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ কলম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি সপ্তাহান্তেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন যে আগুন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
সামারল্যান্ড শহরের ১৮ বছর বয়সী কিগান রাডমস্কি তার পরিবারের সাথে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। শুক্রবার রাতে রাতের খাবার খাওয়ার সময় তারা দাবানলের ধোঁয়া দেখতে পান এবং চার ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। রাডমস্কি জানান, তার বাড়িটি ১৯৯৬ সালে তার দাদি তৈরি করেছিলেন। তিনি এখনো জানেন না তাদের বাড়িটি টিকে আছে কি না। সামারল্যান্ডের মেয়র ডগ হোমস জানিয়েছেন, অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তবে সঠিক সংখ্যা এখনো অজানা।
এদিকে, দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশের কারণে অনেক খামারি তাদের গবাদি পশু ফেলে আসতে বাধ্য হয়েছেন। কাজ নাওলিন নামের এক স্বেচ্ছাসেবক জানিয়েছেন, তারা এ পর্যন্ত ৫৭টি ঘোড়াসহ অনেক প্রাণীকে উদ্ধার করেছেন। তিনি বর্তমানে সামারল্যান্ডে আটকা পড়া ১৪টি আলপাকা এবং আটটি ঘোড়াকে উদ্ধারের জন্য অনুমতির অপেক্ষায় আছেন। এর আগে ওকানাগানের ব্র্যাডলি ক্রিক দাবানলে ২০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও বর্তমানে সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া কানাডার বনাঞ্চলে দাবানলের তীব্রতা ও পৌনঃপুনিকতা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।




























