ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ১,৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ তাদের হেফাজতে রেখেছে। হারেৎজ পত্রিকার সোমবারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে বন্দি বিনিময়ের প্রয়োজনে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এই মরদেহগুলো আটকে রাখা হয়েছে। যদিও বর্তমানে হামাসের কাছে কোনো ইসরায়েলি বন্দি নেই, তবুও ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থায় সাম্প্রতিক আলোচনায় এই সংখ্যাটি উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটিতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শিন বেত প্রধান ডেভিড জিনি মরদেহগুলো আটকে রাখার এই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও এই পরিকল্পনার পক্ষে রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ইসরায়েলি নাগরিক বন্দি হলে বা নিখোঁজ হলে এগুলো কাজে লাগানো যায়।
হারেৎজের তথ্যমতে, এই মরদেহগুলোর বেশিরভাগই গাজার ফিলিস্তিনিদের, যারা ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালের হামলায় বা পরবর্তী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। তবে এর মধ্যে এমন কিছু ফিলিস্তিনিও রয়েছেন, যারা কোনো ধরনের লড়াইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এ নিয়ে আইনি বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, লড়াইয়ে জড়িত থাকার প্রমাণ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখার মতো আইনি ক্ষমতা রাষ্ট্রের নেই, যদি না নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে।
এর আগে, অক্টোবর ২০২৫ সালে ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর দ্য রিট্রিভাল অব মার্টিয়ার্স বডিস অ্যান্ড ডিসক্লোজার অব দ্য ফেট অব দ্য মিসিং জানিয়েছিল যে, ইসরায়েল দক্ষিণ ইসরায়েলের সদে তেইমান সামরিক স্থাপনায় গাজার প্রায় ১,৫০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর, ২০২৫ সালে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই হামলায় কমপক্ষে ১,২৫৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪,১৩৯ জন আহত হয়েছেন। অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭৩,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১,৭৪,০০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো এই যুদ্ধের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে।






























