ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন ভ্রমণ অনুমোদন ব্যবস্থা ‘ইউরোপিয়ান ট্রাভেল ইনফরমেশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সিস্টেম’ বা ইটিআইএএস (ETIAS) চালুর পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে দুবাইসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইউরোপগামী পর্যটকদের আপাতত এই অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে না। ইইউ কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই ব্যবস্থাটি চালুর কোনো নতুন তারিখ ঘোষণা করেনি।
বর্তমানে ইটিআইএএস-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ব্যবস্থাটি “বর্তমানে কার্যকর নয়” (currently not in operation) এবং কোনো আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। ইইউ জানিয়েছে, ব্যবস্থাটি চালু করার কয়েক মাস আগেই ভ্রমণকারীদের নতুন তারিখ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে।
মূলত ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে ইটিআইএএস চালুর পরিকল্পনা ছিল। এই পরিবর্তনটি সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যারা ভিসা ছাড়াই ইউরোপের ৩০টি দেশে স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। ইটিআইএএস কার্যকর হলে যাত্রার আগেই এই ইলেকট্রনিক অনুমোদন সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক হবে।
২০২১ সালে প্রথমবার এই ব্যবস্থাটি চালুর কথা থাকলেও বারবার তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কোনো আবেদন প্রক্রিয়া চালু না থাকায় পর্যটকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, তারা যেন কোনো অনানুষ্ঠানিক বা ভুয়া ওয়েবসাইট থেকে ইটিআইএএস-এর জন্য আবেদন করার চেষ্টা না করেন।
অনুমোদন ব্যবস্থাটি চালু হলে তা ভ্রমণকারীর পাসপোর্টের সাথে যুক্ত থাকবে এবং সাধারণত তিন বছর বা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে ইটিআইএএস চালু হলেও বর্তমানে বিদ্যমান স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণের নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ, যেকোনো ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলোতে অবস্থান করা যাবে।
অনেকেই ইটিআইএএস-কে ইউরোপের এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম বা ইইএস (EES)-এর সাথে গুলিয়ে ফেলেন, যা সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্রক্রিয়া। ইইএস গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে কার্যকর হয়েছে। এটি মূলত সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় পাসপোর্ট তথ্য, মুখমন্ডলের ছবি, আঙুলের ছাপ এবং যাতায়াতের তথ্য সংরক্ষণ করে।
ইটিআইএএস এবং ইইএস-এর কার্যপদ্ধতি ভিন্ন। ইটিআইএএস-এর ক্ষেত্রে ভিসা-মুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের ভ্রমণের আগে অনলাইনে আগাম অনুমোদন নিতে হবে। ইইউ নতুন তারিখ ঘোষণা না করা পর্যন্ত ভ্রমণকারীরা তাদের জাতীয়তা অনুযায়ী বিদ্যমান নিয়ম মেনেই ইউরোপে যাতায়াত করতে পারবেন।
বর্তমানে মন্টিনিগ্রোর ভিসা-মুক্ত প্রবেশ সুবিধা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পর্যটন প্রবাহ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এছাড়া ইতালি ও স্পেনের শেনজেন ভিসা সংক্রান্ত আপডেট এবং জার্মানির ৬২টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশের সুযোগসহ শেনজেন অঞ্চলের ডিজিটাল সীমান্ত ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলো পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকতে হবে যেন তারা শুধুমাত্র ইইউ-এর অফিসিয়াল তথ্যের ওপর নির্ভর করেন। নতুন কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ইউরোপ ভ্রমণে কোনো বাড়তি অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
সূত্র: গালফ নিউজ





























