বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির বার্তা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন দেশটির হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ঢাকা থেকে পাঠানো এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি তুলে ধরেন। দিল্লিতে এই বার্তা পৌঁছানোর পর দীনেশ ত্রিবেদী আবার ঢাকায় ফিরে আসবেন। সে সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির দেওয়া দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা বাংলাদেশকে জানাবেন।
ভারতের রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদি এক অত্যন্ত আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। ২০১৪ সালের মে মাসে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি ভারতের ১৬তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে, ২০০১ সালে তিনি গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান, যা ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় মাইলফলক। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গুজরাটের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হলেও, ২০০২ সালের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তাঁকে চরম সমালোচনার মুখে দাঁড় করায়। ওই দাঙ্গায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল, যাদের অধিকাংশ ছিলেন মুসলিম। তবে দাঙ্গায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ মোদি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।
গুজরাট দাঙ্গার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মোদি ব্যাপক বর্জনের শিকার হন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং যুক্তরাজ্য তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। তবে এক দশকের ব্যবধানে তিনি মূল ধারার রাজনীতিতে নাটকীয়ভাবে ফিরে আসেন এবং দেশের কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় আরোহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক ভারত গঠনে তিনি নানামুখী পদক্ষেপ নেন। তাঁর সময়ে সস্তা তেলের কারণে তিনি বাহবা পান এবং জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তোলেন।
সমালোচকদের ধারণা ছিল গুজরাট দাঙ্গার কারণে মোদি কখনোই প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। ওই দাঙ্গার ঘটনায় তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মায়া কোদনানির ২৮ বছরের কারাদণ্ড হলেও মোদি নিজে আইনি ঝাপটা থেকে বেঁচে যান। তবে এই দাঙ্গার জন্য তাঁকে কখনো অনুশোচনা করতে বা ক্ষমা চাইতে দেখা যায়নি। দাঙ্গার পর বহু মুসলিম পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আহমেদাবাদের ঘেট্টো এলাকায় বসবাস শুরু করতে বাধ্য হয়। বিশ্লেষকদের মতে, কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) আশীর্বাদ থাকায় মোদির গায়ে কখনো আঁচড় লাগেনি। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত আরএসএসের মূল লক্ষ্য ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা, যার সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৮০ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে মোদি দীর্ঘদিন আরএসএসের একজন প্রশিক্ষিত প্রচারক হিসেবে কাজ করেছেন।
২০০১ সালের জানুয়ারিতে গুজরাটে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ২০ হাজার মানুষের প্রাণহানির পর তৎকালীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পান। এরপর তিনি ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা চারবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগত জীবনেও মোদি নানা বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে পারিবারিক পছন্দে যশোদাবেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হলেও তাঁরা খুব কম সময়ই একসঙ্গে সংসার করেছেন। সমালোচকদের মতে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে বঞ্চিত করেছেন। দীর্ঘ সময় এই বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রথমবার হলফনামায় তিনি বিয়ের কথা স্বীকার করেন।
১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর স্বাধীন ভারতের গুজরাটের মেহসানা জেলার ভাদনগর নামের এক ছোট গ্রামে নরেন্দ্র মোদির জন্ম হয়। তাঁর বাবা দামোদারদাস মোদি এবং মা হিরাবা মোদির ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান মোদি শৈশবে ভাদনগর রেল স্টেশনে বাবার চায়ের দোকানে চা বিক্রি করতেন। অভাবের মধ্যেও পড়াশোনা ও বিতর্কের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করা মোদি পরবর্তী সময়ে গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, Prime Minister Tarique Rahman
prothomalo-bangla/2026-08-11/g0gpxjhd/Modi-Trivedi-01.jpeg




























