ওমানের উপকূলে আটকা পড়া একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার থেকে নিঃসরণ হওয়া তেল এখন দেশটির মূল ভূখণ্ডের সৈকতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই তেল নিঃসরণের ঘটনাটি কেবল কবিলিয়াহ দ্বীপের আশপাশের পরিবেশকেই বিপন্ন করছে না, বরং এর প্রভাব এখন মূল ভূখণ্ডের উত্তর দিকেও বিস্তৃত হয়েছে।
কারোলিন বেজেঙ্গি নামের এই ট্যাঙ্কারটি জুন মাসে বিস্ফোরণের শিকার হওয়ার পর থেকেই সেখান থেকে অপরিশোধিত তেল নিঃসরণ হচ্ছে। জাহাজটি তখন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করছিল। এই ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি এবং কোনো পক্ষ এর দায় স্বীকার করেনি। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কবিলিয়াহ দ্বীপের উপকূলে আংশিক ডুবে থাকা এই জাহাজ থেকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দ্রুত তেল ছড়িয়ে পড়ছে, যা স্থানীয় সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে।
ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দূষণটি কবিলিয়াহ দ্বীপ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৫ মাইল) উত্তরে অবস্থিত রাস মাদরাকাহর সৈকতে পৌঁছেছে। কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক করেছে যে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মাসিরাহ দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলও এই তেল নিঃসরণের কবলে পড়তে পারে, যা ওই জাহাজ থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার (১৮৫ মাইল) দূরে অবস্থিত।
২৪৭ মিটার (৮৯৯ ফুট) দীর্ঘ কারোলিন বেজেঙ্গি জাহাজটিকে রাশিয়ার কথিত 'শ্যাডো ফ্লিট' বা ছায়া নৌবহরের অংশ বলে মনে করা হয়। ব্রিটিশ সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার তেল পরিবহনের দায়ে জাহাজটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সিনম্যাক্স মেরিটাইম নামের একটি ভূ-স্থানিক তথ্য ট্র্যাকিং কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি গত মে মাসে রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে ছেড়ে এসেছিল। জাহাজটির মালিকানা সাংহাই-ভিত্তিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রগুলো থেকে দেখা গেছে, বর্ষাকালের প্রবল বাতাস ও সমুদ্র স্রোতের কারণে তেল প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার (২৩১ বর্গমাইল) এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।































