সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের নির্দেশনায় গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে একটি নতুন এয়ার ব্রিজ বা আকাশপথ চালু করেছে দুবাই হিউম্যানিটারিয়ান (DXBH)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পক্ষ থেকে গাজার জনগণের জন্য পাঠানো এই জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীগুলো দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত দুই দিনে দুবাই এয়ার উইং থেকে সি-১৩০ বিমানে ১১ মেট্রিক টন অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ নিয়ে প্রথম ফ্লাইটটি মিশরের আল-আরিশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখান থেকে এই ত্রাণসামগ্রী গাজায় পাঠানো হবে। এরপর আরও তিনটি ফ্লাইটে ওষুধ, তাবু এবং পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বিস্কুটসহ বিভিন্ন জরুরি পণ্য পাঠানো হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডব্লিউএইচও-এর প্রায় ১৫০ মেট্রিক টন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সরঞ্জাম গাজায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং এই লজিস্টিক পাইপলাইন অব্যাহত থাকবে।
দুবাই হিউম্যানিটারিয়ানের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইব্রাহিম আল শাইবানির মতে, গাজার জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দুবাইয়ের নেতৃত্বের নির্দেশনায় এই এয়ার ব্রিজটি দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টারই একটি অংশ। তিনি জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দুবাই হিউম্যানিটারিয়ান এ বছর আফগানিস্তান, মোজাম্বিক, লেবানন ও উগান্ডাসহ বিভিন্ন দেশে ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে। এছাড়া ডব্লিউএইচও-এর অনুরোধে স্থলপথে তিনটি ট্রাকের মাধ্যমেও গাজায় জরুরি ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে, যা তাদের লজিস্টিক সক্ষমতার নমনীয়তা প্রমাণ করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল হেলথ ইমার্জেন্সি লজিস্টিকস হাবের জরুরি কার্যক্রম প্রধান রবার্ট ব্ল্যানচার্ড জানান, এই হাবের মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ডলার মূল্যের ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম গাজায় পাঠানো হচ্ছে, যা প্রায় ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে। দুবাই সরকার ও দুবাই হিউম্যানিটারিয়ানের সহায়তায় এই চার্টার ফ্লাইটগুলো পরিচালনার ফলে ডব্লিউএইচও অনেক বেশি ওষুধ সরবরাহ করতে পারছে এবং রোগীদের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে পারছে।
ব্ল্যানচার্ড আরও জানান, সংঘাত শুরুর পর থেকে এই চার্টার ফ্লাইটগুলো গাজার স্বাস্থ্য জরুরি কার্যক্রমে লজিস্টিক খরচ বাবত প্রায় ৪০ লাখ ডলার সাশ্রয় করেছে। বর্তমানে বৈশ্বিক আর্থিক সীমাবদ্ধতার মাঝে দুবাই হিউম্যানিটারিয়ানের এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ফ্লাইটগুলো ডব্লিউএইচও-কে তাদের সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে গাজাসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের রোগীদের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।
সূত্র: Gulf Today






























