কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডেকে দক্ষিণ লন্ডনের একটি ঠিকানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ৪১ বছর বয়সী এই সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক গত শুক্রবার নিজ বাসভবনে নিথর অবস্থায় ছিলেন বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমানে তার মৃত্যুকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে এটি সন্দেহজনক নয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
জেসন আরডের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডেবোরা প্রেন্টিস। তিনি জানান, এই খবরটি শুনে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত।
উল্লেখ্য যে, মাত্র নয় দিন আগেই আরডে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জেসাস কলেজের অধ্যাপক ও ফেলো পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ২০২৩ সালে যখন তিনি নিয়োগ পান, তখন তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক।
তার পদত্যাগের পেছনে ছিল তার ব্যক্তিগত জীবন ও একাডেমিক কাজের ওপর চালানো বেশ কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ডক্টরেট থিসিসে প্লেজিয়ারিজম বা চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ।
আরডের মৃত্যুর পর তার পরিবার এক বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে চালানো ‘হয়রানির প্রচারণা’ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জেসন একজন ভদ্র মানুষ ছিলেন এবং এই অপপ্রচারের চাপ তিনি সহ্য করতে পারেননি।
গত ২৪ জুলাই ‘দ্য টাইমস অফ লন্ডন’ আরডের ২০১৫ সালের পিএইচডি থিসিস নিয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, তার থিসিসের বেশ কিছু অংশ অন্য এক গবেষকের লেখার সাথে হুবহু মিলে যায়। এছাড়া তার দাতব্য কাজের জন্য অর্থ সংগ্রহের দাবি নিয়েও গণমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছিল।
আরডে স্বীকার করেছিলেন যে তিনি কিছু ভুল করেছেন, তবে তিনি নিজেকে ‘মিথ্যাবাদী’ বা ‘প্রতারক’ হিসেবে চিত্রিত করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। পদত্যাগের সময় তিনি বলেছিলেন, তার ওপর চালানো এই কঠোর নজরদারির ব্যক্তিগত মূল্য অনেক বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমে আরডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আমলে নেয়নি, কারণ লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয় আগেই তা তদন্ত করেছিল। তবে গত সপ্তাহে কেমব্রিজ জানায়, তারা তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু করবে। একইসাথে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ও তার পূর্বের একাডেমিক কাজগুলো পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত তার স্মৃতিকথা ‘গ্রেট অ্যান্ড আনফরচুনেট থিংস’-এ তার অটিজম ও জীবনের সংগ্রামের কথা উঠে এসেছে। প্রকাশক সাইমন অ্যান্ড শুস্টার জানিয়েছে, বইটির ক্ষেত্রে কোনো প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ ওঠেনি।
সূত্র: আল জাজিরা
































