রাশিয়ার অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে অন্তত একজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। রবিবার ভোরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহ-তে চালানো হামলায় এক নারী নিহত ও ছয়জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় গভর্নর।
একই সময়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে কিয়েভ “ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার” শিকার হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এতে একজন আহত হয়েছেন এবং ওবোলনস্কি ও হলোসিভস্কি জেলার অ-আবাসিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রবিবার জানিয়েছে যে, ন্যাটোর আকাশসীমা পাহারার দায়িত্বে থাকা একটি স্প্যানিশ এফ-১৮ যুদ্ধবিমান দেশটির আকাশসীমায় অবৈধভাবে ঢুকে পড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ড্রোনটির উৎস সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি। এ বছর রোমানিয়ায় এটি চতুর্থ ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা। এর আগে জুলাই মাসে একটি রোমানিয়ান যুদ্ধবিমান সন্দেহভাজন রুশ ড্রোন এবং মে মাসে গালাতি শহরে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে দুইজন আহত হয়েছিলেন।
ইউক্রেনের সাথে ৬৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় রোমানিয়া প্রায়ই রুশ ড্রোনের অনুপ্রবেশের শিকার হচ্ছে। মস্কো ইউক্রেনের বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করায় এই ঝুঁকি বাড়ছে। ২০২২ সালের শুরুর দিকে পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়া প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওই মাসে অন্তত ৪৩৭ জন নিহত এবং ২,৬১০ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধের প্রভাব কৃষ্ণসাগরের নৌ-চলাচল রুটেও পড়েছে, যেখানে ভাসমান মাইন ও মনুষ্যবিহীন সমুদ্র ড্রোন পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, রবিবার রাশিয়ায় ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। মস্কোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানী অভিমুখে আসা শতাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, ড্রোন ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তিনজন আহত হয়েছেন এবং জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে সামরিক, শিল্প ও লজিস্টিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার চলমান হামলার জবাবেই তারা এই পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা






























