রাশিয়ার উপর্যুপরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান 'নাফটোগাজ গ্রুপ'-এর বেশ কিছু স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে তাদের স্থাপনাগুলোতে অন্তত ১৩ বার হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তাদের বিভিন্ন প্রাঙ্গণ লক্ষ্য করে প্রায় ৩০০ বার হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, শীতকালকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বেসামরিক নাগরিকদের আলো, তাপ ও পানি সরবরাহ থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে ইউক্রেনের মনোবল ভেঙে দিতে চাইছে মস্কো। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনে রাশিয়ার মূল লক্ষ্যই ছিল ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি গ্রিড ধ্বংস করা। ইউক্রেনীয়রা আশঙ্কা করছেন, আসন্ন শীতকালেও রাশিয়া এই ধ্বংসাত্মক অভিযান অব্যাহত রাখবে।
নাফটোগাজ জানিয়েছে, দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের উৎপাদন ক্ষমতা ও যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একটি স্থাপনায় তো এক সপ্তাহের মধ্যেই একাধিকবার আঘাত হানা হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত এসব হামলায় কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী হতাহত হননি।
প্রায় ১,২৫০ কিলোমিটার (৭৮০ মাইল) দীর্ঘ ফ্রন্ট লাইনে স্থল যুদ্ধ ড্রোন ও রোবটের কারণে স্থবির হয়ে পড়ায় উভয় দেশই এখন আকাশপথে হামলা জোরদার করেছে। দীর্ঘপাল্লার নতুন নতুন অস্ত্র তৈরি করছে তারা। সাম্প্রতিক এক হামলায় ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে রাশিয়ায় সাতজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, রুশ বাহিনীর হামলায় ইউক্রেনে চারজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
যুদ্ধের শুরুতে ইউক্রেন সম্পূর্ণভাবে বিদেশি সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, বর্তমানে তারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে অস্ত্র উৎপাদন বাড়িয়েছে। গত রোববার তারা রাশিয়ার অভ্যন্তরে ৮০০টিরও বেশি দূরপাল্লার ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এমনকি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার (১,২৪২ মাইল) দূরে অবস্থিত রাশিয়ার অন্যতম শীর্ষ অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান 'ওয়াইল্ডবেরিজ'-এর ডিপো লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে কিয়েভ।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, রাশিয়ার হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৭,০০০ বেসামরিক ইউক্রেনীয় নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে গত জুলাই মাসে ৪৩৭ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই মাসের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি। ইউক্রেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পেট্রিওট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তীব্র সংকটে ভুগছে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার একমাত্র কার্যকর উপায়। এই সংকট কাটাতে কিয়েভ নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে নতুন প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।






























