ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টার্ক। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অবিলম্বে সংযত হওয়ার এবং উত্তেজনা কমিয়ে আনার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্ট থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় হুথিদের হামলায় অন্তত ১৭ জন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। এর আগে জুলাই মাসের শেষের দিকে হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় দুইজনের হতাহতের খবর পাওয়া গিয়েছিল। ভলকার টার্ক সতর্ক করে বলেছেন, ইয়েমেনকে আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে সব পক্ষকে বিরত থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমি সব পক্ষকে উত্তেজনা কমিয়ে আনার এবং ইয়েমেনের জনগণকে আরও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানাচ্ছি।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ৭ আগস্ট মারিবের জাও আল-নাসিম বাস্তুচ্যুত শিবিরে হুথিদের ছোড়া মিসাইল হামলায় এক শিশুসহ ছয়জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। ৯ আগস্ট তায়েজ গভর্নরেটের মোখা বন্দরে মিসাইল ও ড্রোন হামলায় তিন বন্দর কর্মী নিহত এবং চারজন আহত হন। এছাড়া ১৪ ও ১৫ আগস্ট ওই বন্দরে আরও হামলার খবর যাচাই-বাছাই করছে জাতিসংঘ, যা বেসামরিক হতাহতের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে ১১ আগস্ট বাব আল মানদাব প্রণালীতে একটি কার্গো জাহাজে হামলায় চারজন ক্রু সদস্য নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি এবং একজন ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক ছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন।
সংঘাতের ফলে জ্বালানি গুদাম এবং মোখার সৌদি ফিল্ড হাসপাতালের একটি আবাসিক কম্পাউন্ডসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভলকার টার্ক জোর দিয়ে বলেন, সব পক্ষকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে হবে এবং বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনায় হামলা থেকে বিরত থাকতে হবে। ইয়েমেনের অন্তত ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলবে। তিনি অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।






























