ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রধান পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সোমবার দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা অমিত মালব্যর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দীপক মাসকে। ২০১৫ সাল থেকে মালব্য এই দায়িত্বে ছিলেন। মাসকের পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু না জানানো হলেও, তার লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী তিনি এর আগে মধ্য ভারতে দলের মুখপাত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেলের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন।
এই রদবদলটি করেছেন বিজেপির নতুন সভাপতি নীতিন নবীন, যিনি গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৪৫ বছর বয়সী নবীন দলের সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের ধরে রাখতে দলের ভেতরে এই প্রজন্মগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। নবীন সরাসরি কোনো কারণ উল্লেখ না করলেও জানিয়েছেন, এই সাংগঠনিক পরিবর্তন দলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নতুন গতি সঞ্চার করবে।
সম্প্রতি ভারতে মেডিকেল কলেজের প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে দিল্লি ও অন্যান্য শহরে হাজার হাজার মানুষ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। এই আন্দোলনের মুখে ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্বে ছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম, যা মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশের পর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ১৫ মিলিয়ন অনুসারী অর্জন করে। অথচ একই সময়ে বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অনুসারীর সংখ্যা ছিল ৯ মিলিয়নের কম।
মূলত জেন-জেড প্রজন্মের তরুণরা সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে মোদি সরকার ও বিজেপিকে ব্যঙ্গাত্মক গান, র্যাপ এবং ভিডিওর মাধ্যমে কোণঠাসা করে ফেলে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। বিদায়ী সোশ্যাল মিডিয়া প্রধান অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডেলে নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, মাসকে ও তার দলের নেতৃত্বে বিজেপির ডিজিটাল যোগাযোগ নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে এবং সৃজনশীলতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: খালিজ টাইমস






























