জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরগুলোতে আয়োজনের একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চারটি পৃথক উপকমিটি গঠন করে। বর্তমানে এই উপকমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে যোগাযোগ করে পরীক্ষা পদ্ধতি, ব্যবস্থাপনা, সম্ভাব্য খরচ এবং সার্বিক অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে।
সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জাবিকে জানানো হয়েছে যে, ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি হলে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ৪৬৫ থেকে ৪৯০ টাকা খরচ হতে পারে। আর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ হাজারের কম হলে এই খরচ বেড়ে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীপ্রতি প্রায় ৩৯৫ থেকে ৪০০ টাকা খরচের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গঠিত উপকমিটি এখনো তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়নি বলে জানা গেছে।
জাবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) ও কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা সোমবার জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকমিটির প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। সবকটি প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এই সভা কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। এদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গঠিত উপকমিটিগুলো তাদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আলোচনা সম্পন্ন করেছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গঠিত জাবির উপকমিটির সদস্য ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জানান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি রয়েছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে ইতিবাচক। তিনি বলেন, তারা পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত এবং সুষ্ঠুভাবে তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করবেন, তবে প্রতিটি ব্যবস্থারই নিজস্ব সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী সভায় নেওয়া হবে। উল্লেখ্য যে, এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ভর্তি কার্যক্রমের আবেদন শুরু ও পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে, যার বিপরীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এখনো তাদের সময়সূচি বা বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারেনি।
সূত্র: প্রথম আলো































