দুবাইয়ের আবাসন খাতে গত কয়েক মাসে দামের যে সংশোধন দেখা গেছে, তা বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। যারা আগে আরজান বা জুমেইরাহ ভিলেজ সার্কেলের (জেভিসি) মতো মধ্যম সারির এলাকায় ছোট ইউনিট খুঁজছিলেন, তারা এখন দামের এই পরিবর্তনের ফলে দুবাই হিলস এস্টেট, দুবাই ক্রিক হারবার, পাম জুমেইরাহ এবং দুবাই মেরিনার মতো প্রিমিয়াম এলাকাগুলোতে বড় আকারের ইউনিট কেনার সামর্থ্য অর্জন করছেন।
শিল্প সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কর্মকর্তারা গত কয়েক মাসের এই দরপতনকে আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে একটি ‘স্বাস্থ্যকর সংশোধন’ (healthy correction) হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে বাজারটি মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য অনেক বেশি সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। রিয়েল এস্টেট ব্রোকারেজ ফার্ম ‘ইকুইটি’-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই আঞ্চলিক অস্থিরতা একটি অপ্রত্যাশিত সুবিধা তৈরি করেছে, যা বাজারকে পুনরায় সাজিয়ে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য সুযোগের পরিধি বাড়িয়েছে।
ইকুইটির বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, এই সংশোধন কেবল দামের পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি রিসেট’। আগে যারা কেবল এক বেডরুমের ফ্ল্যাটের জন্য সীমাবদ্ধ ছিলেন, তারা এখন প্রতিষ্ঠিত এলাকায় দুই বেডরুমের ফ্ল্যাট কেনার সামর্থ্য রাখছেন। বিনিয়োগকারীরাও এখন স্টুডিওর পরিবর্তে এক বেডরুমের ইউনিটে বিনিয়োগ করে ভালো মুনাফা ও মূল্যায়নের সম্ভাবনা দেখছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আঞ্চলিক সংঘাত শুরুর পর থেকে বাজারটি পাঁচ বছরের টানা ঊর্ধ্বগতির পর এই ‘স্বাস্থ্যকর সংশোধন’ প্রত্যক্ষ করেছে। ভ্যালুস্ট্রাটের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে তাদের মূল্য সূচক ২১৯.২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা মাসিক ভিত্তিতে ০.৩ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে। বার্ষিক হিসাবে সামগ্রিক বাজারে ১.৬ শতাংশ পতন দেখা গেছে। ভিলাগুলোর মান ২৯২.৫ পয়েন্টে এবং অ্যাপার্টমেন্টের মান ১৬৮.৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে (জানুয়ারি ২০২১-কে ১০০ ধরে)।
ইকুইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এমরাহ ইয়ার বলেন, “গত ছয় মাসে বাজারে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে তা অত্যন্ত আকর্ষণীয়। আগে যেসব প্রিমিয়াম লোকেশনে বাড়ি কেনা কঠিন ছিল, এখন সেখানে বিনিয়োগ করা অনেক সহজ। ক্রেতাদের কথোপকথন এখন স্বল্পমেয়াদী মুনাফা থেকে সরে এসে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ, জীবনযাত্রার মান এবং টেকসই রিটার্নের দিকে ঝুঁকেছে।”
প্রপার্টি মনিটরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দুবাইয়ে ৭৯,২৮১টি আবাসিক লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য ২২১.৩ বিলিয়ন দিরহাম। যদিও এটি আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম, তবুও বাজারের শক্তিশালী অবস্থান বজায় রয়েছে। এছাড়া মরগ্যানস ইন্টারন্যাশনাল রিয়েলটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে লেনদেনের পরিমাণ ৮,৬৫৪টিতে নেমে এসেছে, যা প্রায় ৪০ শতাংশ কম এবং এর মূল্য ৫৭ শতাংশ কমে ২৮.৭৮ বিলিয়ন দিরহামে দাঁড়িয়েছে।
লেনদেনের এই পরিবর্তনের মধ্যে নগদ অর্থায়নে কেনাকাটা ৭৫ শতাংশ কমে ১,১২৩টিতে দাঁড়িয়েছে, যেখানে বন্ধকী ঋণের মাধ্যমে কেনাকাটা ২৫ শতাংশ কমে ৭,৫৩১টিতে নেমেছে। তবে অফ-প্ল্যান প্রকল্পগুলোতে ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছেন। সর্বশেষ খবরের আপডেট পেতে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে আমাদের অনুসরণ করুন।
সূত্র: খালিজ টাইমস






























