সোমালিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বাইদোয়ায় সরকারি বাহিনী ও মিলিশিয়াদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টার তীব্র সংঘর্ষে বহু যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এই সহিংসতায় অন্তত চারজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৯৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বে রিজিওনাল হাসপাতালের এক কর্মকর্তা। আহতদের মধ্যে ২৮ জন নারী এবং একজন বয়স্ক ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি বিপথগামী গুলির শিকার হয়েছিলেন।
সোমবার ভোরে বাইদোয়ার উপকণ্ঠে মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো সরকারি অবস্থানে হামলা চালালে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। শহরটি সংঘাত ও খরার কারণে বাস্তুচ্যুত পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের আবাসস্থল। সংঘর্ষের সময় বাইদোয়ার পূর্ব দিকে একটি সামরিক ঘাঁটির কাছে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কয়েক মিনিট পরই শহরের দক্ষিণে বোনকে এলাকায় আরেকটি ঘাঁটির চারপাশে তীব্র লড়াই শুরু হয়। এরপর সশস্ত্র ব্যক্তিরা শহরে প্রবেশ করে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়।
বে রিজিওনাল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ডা. আবদিকাফি ওমর মাহমুদ জানান, তাদের হাসপাতালে মাত্র ৪০টি শয্যা থাকায় আহতদের সামলাতে জরুরি তাঁবু স্থাপন করতে হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার বাইদোয়ায় পরিস্থিতি শান্ত হলেও নিরাপত্তা বাহিনী প্রধান সড়কগুলোতে টহল দিচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও যানবাহন পরিদর্শন করছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক সামিরা গেইড জানান, দক্ষিণ পশ্চিম অঙ্গরাজ্যের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদিয়াজিজ হাসান মোহাম্মদ লাফতারিনের অনুগত যোদ্ধারা প্রায় ছয় ঘণ্টা বাইদোয়ার কিছু অংশ দখল করে রেখেছিল। একই সময়ে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট চরমপন্থী গোষ্ঠী আল-শাবাব শহরের উপকণ্ঠে দুটি সামরিক অবস্থানে হামলা চালায়। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, হামলায় প্রায় ৩০ জন আক্রমণকারী নিহত হয়েছে, তবে দক্ষিণ পশ্চিম অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা ৫০ জন বলে দাবি করেছে।
সোমালিয়ার ফেডারেল সরকার জানিয়েছে, আক্রমণকারীদের মধ্যে লাফতারিন-পন্থী মিলিশিয়া এবং আল-শাবাবের যোদ্ধারা ছিল। নিরাপত্তা মন্ত্রী ইসাক মোহাম্মদ কোরসার সাংবাদিকদের জানান, সরকার আল-শাবাব যোদ্ধাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং কয়েকজনকে জীবিত আটক করেছে।
গত মার্চ মাসে লাফতারিনের বিতর্কিত পুনর্নির্বাচন ফেডারেল সরকার প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই দক্ষিণ পশ্চিম অঙ্গরাজ্যের নেতৃত্ব নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। ফেডারেল বাহিনী ৩০ মার্চ বাইদোয়ার নিয়ন্ত্রণ নিলে লাফতারিন পদত্যাগের ঘোষণা দেন। বিশ্লেষক সামিরা গেইড সতর্ক করে বলেছেন, রাজনৈতিক বিরোধ যখন সামরিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়, তখন তা চরমপন্থী গোষ্ঠীর জন্য সুযোগ তৈরি করে, যার মাসুল দিতে হয় সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের।






























