ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত তরুণের নাম জাহিদুল ইসলাম (২৪), যিনি পেশায় একজন প্রসাধন বা কসমেটিকস ব্যবসায়ী। অভিযোগ রয়েছে, গত শনিবার রাত ৯টার দিকে জাহিদুল ওই কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান এবং সেখানে একটি পরিত্যক্ত ঘরে তাকে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে কিশোরীকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগী কিশোরী বিষয়টি তার বড় বোনকে জানালে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
পরদিন রোববার সকালে কিশোরীর বড় ভাই অভিযুক্ত জাহিদুলকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উল্টো চড়াও হন এবং বড় ভাইকে মারধর করেন। এ সময় মামলা করলে পরিণাম খারাপ হবে বলে জাহিদুল হুমকি দেন। পরে ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি স্থানীয় গ্রাম সর্দারদের জানালে গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য শেখ ফাহিমা বেগমের উপস্থিতিতে গ্রামে একটি সালিস বৈঠক বসে। সালিসে অভিযুক্ত জাহিদুলকে মাত্র সাতবার কান ধরে উঠবস করানোর মাধ্যমে দায়সারা বিচার করা হয়, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার এ রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। কিশোরীর বড় ভাই বলেন, স্থানীয় সর্দাররা জাহিদুলকে মাত্র সাতবার উঠবস করিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি এই রায়ে অসন্তুষ্ট এবং এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি খুব সহজ-সরল প্রকৃতির। এই সুযোগ নিয়ে জাহিদুল এমন জঘন্য কাজ করেছে। আমি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং এ ঘটনায় আমি মামলা করব।’ ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ভুক্তভোগীর পরিবারকে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছে। অভিযুক্ত তরুণ জাহিদুল ইসলাম সালিসের পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন এবং তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল চারটার দিকে কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের গাইনি বিভাগ কিশোরীর প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। মেডিকেল প্রতিবেদনের পরই ধর্ষণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে, সালিসে উপস্থিত থাকা ইউপি সদস্য শেখ ফাহিমা বেগম বলেন, ‘এটা দশে বইয়্যা বিচার করছে। আমি না, দশে মিলে শেষ করছে। আর ধর্ষণের ঘটনা তো আমি চোখে দেখিনি। আমি দেখছিও না, আমি সাক্ষীও না।’
সূত্র: প্রথম আলো































