মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা কমে আসায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা তৃতীয় দিনের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান তাদের সামরিক অবস্থানকে ‘ফুললি অফেনসিভ’ বা পুরোপুরি আক্রমণাত্মক করার ঘোষণা দিয়েছে এবং ওয়াশিংটন সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মঙ্গলবার সকালের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৮৯ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯১.৭৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ৩০ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারের দাম ১.০৫ ডলার বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৫.৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
কেসিএম-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় সপ্তাহের শুরুতেই তেলের দামে বড় ধরনের লাফ দেখা গেছে। তিনি আরও জানান, কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না এবং সেখানে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার পর থেকে এই অঞ্চলে সংঘাত নিরসনের পথ রুদ্ধ হয়ে আছে।
এদিকে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের একটি সামরিক জাহাজ ও চারটি এসকর্ট জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে, যা এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ডিবিএস ব্যাংকের জ্বালানি গবেষণা প্রধান সুভ্রো সরকার মনে করেন, কোনো ধরনের চুক্তি না হওয়ার প্রভাব ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিক এবং এমনকি ২০২৭ সালেও তেলের দামের ওপর পড়বে। তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, বর্তমান অনিশ্চয়তা বজায় থাকলে নিকট ভবিষ্যতে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা চলছে এবং ইরান দাবি করেছে তারা চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে। তবে ট্রাম্প এই আলোচনার প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় দেশটিকে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অন্যদিকে, রয়টার্সের প্রাথমিক জরিপ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুদ ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের মজুদ হ্রাস পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: Gulf Today






























