চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সভায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ের ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) পরিকল্পনা কমিশনে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছয়টি সম্পূর্ণ নতুন এবং চারটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকারি তহবিল থেকে ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৮৪৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অংশ নেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এছাড়া কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
অনুমোদিত ১০টি প্রকল্পের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে দুটি প্রকল্প। এগুলো হলো—ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাসমূহ প্রতিস্থাপন ও পুনঃনির্মাণ প্রকল্প এবং ১০টি মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধন) প্রকল্প। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট ফর স্মার্ট মেইনটেন্যান্স টেকনোলজি অব ব্রিজ আন্ডার রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজ ডিপার্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পটিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প এই তালিকায় রয়েছে, যার একটি হলো লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলাকে ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে রক্ষা করার প্রকল্প এবং অন্যটি চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট ও বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট থেকে কুমিরা ঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ প্রকল্প। এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্প এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদারকরণ (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে。
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত দুটি প্রকল্প হলো—জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প এবং ঢাকাস্থ ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (১ম সংশোধন) প্রকল্প। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুমোদিত হয়েছে রামু সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।
একনেক সভায় ইতিপূর্বে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত আরও ৯টি প্রকল্প সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী। এই প্রকল্পগুলো হলো—বিএসএল-৩ গবেষণাগার স্থাপন এবং ভ্যাকসিন ও বায়োলজিক্স গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প; বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বেস্ট) ১ম সংশোধিত প্রকল্প; সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্প; দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রীড সম্প্রসারণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; ঢাকাস্থ গুলশানে ১৩২/৩৩/১১ কেভি ভূ-গর্ভস্থ গ্রীড উপকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প; ডিপিডিসি’র আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (৪র্থ পর্যায়) প্রকল্প; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ‘জনসেবা প্রদানে নিউ মিডিয়ার সর্বোত্তম ব্যবহার’ প্রকল্প এবং কক্সবাজার ও নোয়াখালীর ভাসানচরের ‘প্রি-প্রাইমারি অ্যান্ড প্রাইমারি এডুকেশন ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ (১ম সংশোধন)।
































